ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৩১ মিনিট ৩২ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০ আশ্বিন, ১৪২৭, শরৎকাল, ৭ সফর, ১৪৪২

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের প্রথম মুসলিম চিকিৎসক ডা. এম এম হাসেমের কবরস্থান নিশ্চিহ্ন করায় নিন্দা

শফিক আহমেদ সাজীব

নিরাপদ নিউজ

ডা. এম এ হাসেম ছিলেন পূর্ববঙ্গ তথা চট্টগ্রামের প্রথম মুসলিম চিকিৎসক (এমবি ডাক্তার)। চট্টগ্রাম শহরের জামাল খান রোডস্থ ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের চত্বরটি এই গুণী সমাজসেবক ও মানবহিতৈষি ডা. এম এ হাসেমের নামে। তখন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন চলছে। যখন বার্মায় মাহাত্মা গান্ধী সফর করেছিলেন, সেই সময় প্রবাসি বাঙালিদের পক্ষে এক আয়োজনে ডা. এম এ হাসেম মানপত্র পাঠ করেছিলেন। ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে বাঙালি মুসলমানদের প্রতিযোগিতার উদ্বুদ্ধ করে তিনি বেঙ্গল বার্মা স্টিল কোম্পানি গঠনে অপরিসীম সহায়তা দান করেন। এই মানবহিতৈষী বিপ্লবীর স্মৃতিচিহ্ন আমরা ধারণ করতে চাই। মোমিন রোডস্থ কদম মোবারক মসজিদ প্রাঙ্গণে ডা. এম এ হাসেমের কবর রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তাঁর কবরস্থান প্রাঙ্গন ওয়াকফভুক্ত সম্পত্তি। মোমিন রোডস্থ কদম মোবারক মসজিদ ও মুসলিম এতিমখানার সাথে লাগোয়া কবরস্থানটির অবস্থান। কবরস্থানটির একটি পরিচালনা কমিটি রয়েছে। যাদের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন নিয়ে এই পোস্ট- কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পুরো কবরস্থানটির উন্নয়ন দেখিয়ে ডা. এম এ হাসেমের মতো গুণী ব্যক্তির কবরের নামফলক উপড়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি কবরের সিমেন্টের প্রাচীরওটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। অথচ এখনো অন্য আরো ২০টির মতো কবর পাকা অথবা সিমেন্টের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা অবস্থাতে আগের মতোই আছে। এতেই বুঝা যায়, বিশেষ উদ্দেশ্যে ডা. এম এ হাসেমের সমাধির ফলক ও প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে স্থানীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। খ্যাতনামা চিকিৎসক ডা. এম এ হাসেমের কবরস্থানের ফলক ও প্রাচীর ভাঙ্গার মধ্য দিয়ে কবরস্থানের উন্নয়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে! মহল্লা, মসজিদ ও কবরস্থান পরিচালনা কমিটির কয়েকজন অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে পুরনো করব নিশ্চিহ্ন করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ভেতরে ভেতরে কবর-বাণিজ্য করার এই হীনচেষ্টা আমাদের সমাজের কৃষ্টি কালচারকে কলুষিত করবে।

সমাজের মধ্যেও অস্থিরতা তৈরি করবে বলে আমাদের ধারণা। একইভাবে এ ধরনের অবস্থা চলতে থাকলে স্থানীয় অনেক মানুষের কবর বা সমাধিস্থান বেহাত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডা. এম এ হাসেমের কবরের চিহ্ন মুছে ফেলার মতো অনভিপ্রেত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। একটি সুশৃঙ্খল সমাজের মধ্যে গুণী মানুষের জন্য শেষ শ্রদ্ধা ও স্মৃতির জায়গাটি সংরক্ষণ করা দরকার। তা অতিসত্বর সংরক্ষণ জরুরি। এজন্য সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। সমাজ সচেতনদের দাবি ডা. এম এ হাসেমের কবর পাকা চাই, স্মৃতি চিহ্ন চাই। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম তাঁকে জানে।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x