পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় চলতি বর্ষা মৌসুমে সারাদেশে প্রায় দেড় কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
পরিবেশমন্ত্রী মিন্টু বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘চলতি বর্ষা মৌসুমে সারাদেশে রোপণের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় দেড় কোটি বিভিন্ন প্রজাতির চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্ষার শুরুতেই এসব চারা রোপণ সম্পন্ন করা হবে।’
আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দলের সদস্য (জামায়াত) নীলফামারী-১ আসনের মো. আব্দুস সাত্তারের এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এসব কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী জানান, বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে সহায়তা করতে জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও বৃক্ষমেলার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সরকারি বন পুনরুদ্ধার, উপকূলীয় চরাঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বনায়ন, সড়ক-মহাসড়ক, বাঁধ, নদী ও খালের তীর এবং অন্যান্য প্রান্তিক জমিতে বনায়ন, প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে বৃক্ষরোপণ, কৃষি-বনায়ন ও নগর বনায়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় মোট ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টি হবে।
পরিবেশমন্ত্রী জানান, গাছের রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও ডিজিটাল নজরদারির জন্য একটি ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বনায়নের ৫০ শতাংশকে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে (স্বল্পমেয়াদে ৮০০ হেক্টর, মধ্যমেয়াদে ২ হাজার হেক্টর এবং দীর্ঘমেয়াদে ২ হাজার হেক্টর) মোট ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার করে সেখানে বনায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।
পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবনের আশপাশের গ্রামের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় এবং মানুষ-বাঘ সংঘাত নিরসনে সুন্দরবন সীমান্তে ৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রোপ ফেন্স নির্মাণ করা হবে।
ম্যানগ্রোভ বন রক্ষা ও বন উজাড় প্রতিরোধে সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চারটি রেঞ্জে সাইবার ট্র্যাকারসহ স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে ৩০ হাজার কিলোমিটার, মধ্যমেয়াদে ৬০ হাজার কিলোমিটার এবং দীর্ঘমেয়াদে ৩ লাখ কিলোমিটার এলাকায় স্মার্ট প্যাট্রোলিং চালানো হবে।
পরিবেশমন্ত্রী মিন্টু আরও বলেন, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলসহ চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত বন পুনরুদ্ধার করা হবে।
