বরিশাল বিভাগে শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রামণ রোগ হাম। বিভাগের ৬ জেলায় এখন পর্যন্ত ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ৫২ জন শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের বরগুনায় তিন, ঝালকাঠি ও ভোলা দুই জন এবং বরিশালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এখনও বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপসর্গ নিয়ে বরগুনায় জেলার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮০ জন। হামের পরীক্ষা করিয়েছেন ৭৪ জন। হাম পজিটিভ হয়েছে ২২ জন, রুবেলা পজিটিভ একজন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৮ জন। পটুয়াখালীতে ভর্তি হয়েছে ৩১ জন, পরীক্ষা করিয়েছে ১৪ জন, পজিটিভ দুই জন।
বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৯ জন। পরীক্ষা করিয়েছে ২১ জন, পজিটিভ হয়েছে ৮ জন, রুবেলা পজিটিভ একজন, চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬ জন, মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন একজন। এর মধ্যে নগরীতে আক্রান্ত ১৬ জন, পরীক্ষা করিয়েছেন ১৩ জন, পজিটিভ হয়েছে ৭ জন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩ জন, মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন ৬ জন।
অন্যদিকে ভোলায় ভর্তি হয়েছে ১৮ জন, পরীক্ষা করিয়েছেন ১৬ জন, পজিটিভ ৫ জন ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন একজন। ঝালকাঠিতে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয় ১৫ জন, পরীক্ষা করিয়েছে ১০ জন, পজিটিভ হয়েছেন ৬ জন, চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ শিশু। পিরোজপুরে ভর্তি হয়েছে ১৬ জন শিশু, পরীক্ষা করিয়েছেন ১২ শিশু, এক শিশু পজিটিভ এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬ জন।
বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে চলতি মার্চ মাসে ভর্তি হয় ২০৬ শিশু। এর মধ্যে ১৭৯ জন পরীক্ষা করে। তাদের মধ্যে ৫২ জনের হাম ও তিন জনের হাম রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বিষয়টি উদ্বেগজনক জানিয়ে বলেন, শিশুদের এমনভাবে হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি আগে দেখা যায়নি। বিভাগের মধ্যে বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায় প্রকোপ বেশি। আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনের রেখে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হতে পারে। অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২৬ মার্চ বানারীপাড়ার বাসিন্দা সাত মাস বয়সী শিশু সাফওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৯ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ১৫ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৭৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর বলেন, এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইসোলেশন ওয়ার্ডের ইনচার্জ সেবিকা সেলিনা আক্তার জানিয়েছেন, হামের রোগী বেড়ে যাওয়ায় তাদের চিকিৎসার জন্য পৃথক দুটি কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি কক্ষে চারটি শয্যা থাকলেও নতুন কক্ষটির মেঝেতে শিশুদের রাখা হচ্ছে। একেকটি বেডে দুই থেকে তিন জন করে শিশুকে রাখা হচ্ছে। একইভাবে দ্বিতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডের মধ্যেই হামের রোগীদের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানকার ১৫টি বেডে ১৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ বলেন, সাধারণত ৯ মাসের পর থেকে শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে। অথচ এখন তার কম বয়সের শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এজন্য টিকা কার্যক্রম নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে ভাবতে হবে। টিকা কার্যক্রমটা আরও এগিয়ে নেয়া যায় কিনা সেই বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে।
