শনিবার (২৯ নভেম্বর) উত্তরা দক্ষিণখানের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি)-এর অবসরপ্রাপ্ত নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩য় মহামিলন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের মিলনমেলায় সারা দেশ থেকে প্রায় ২৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ আশ্রাফুজ্জামান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবসরপ্রাপ্তদের দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠা আজও সিভিল এভিয়েশন খাতের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ। তিনি এ আয়োজনকে সদস্যদের পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করার অনন্য প্ল্যাটফর্ম বলে মন্তব্য করেন।
মহামিলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মহাসচিব, সিনিয়র সাংবাদিক এবং সকালের আলো ডট কম এর সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, একটি দেশের নিরাপদ আকাশপথ যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এ নিরাপত্তা বজায়ে যারা জীবনের সেরা সময়টুকু কাজ করে গেছেন, তাদের সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব। তিনি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতাকে জাতির সম্পদ বলে উল্লেখ করেন এবং এই অভিজ্ঞতা নীতি-পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় নিরাপদ সড়কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন,আমাদের দেশে সড়ক অনিরাপদ।আমরা যারা পথচারি,যাত্রী-তাদের সড়কে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।প্রতি বছর দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় যত লোক নিহত হয় তার প্রায় অর্ধেক পথচারি।তিনি উপস্থিত সকলকে,তাদের পরিবারের সদস্য ও বন্ধু-বান্ধবদের সচেতনতার সাথে সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারের আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘ভাষা সৈনিক, বীরমুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান’। তিনি দেশের নিরাপত্তায় অবসরপ্রাপ্ত বিমান নিরাপত্তা কর্মীদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী ও প্রজন্মবিনিময়ের চমৎকার উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নেছার উদ্দিন অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের কল্যাণ, পারস্পরিক সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ মহামিলন আয়োজন করা হয়। তিনি আগত সকল প্রতিনিধিকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এই মহামিলনে আলোচনা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় উপস্থিত সদস্যরা আনন্দঘন সময় কাটান। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওঃখায়রুল আযহার এবং উপস্থাপনা করেন আব্দুল কাদের। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ ও প্রতিনিধিদের মধ্যাহ্নভোজ পরিবেশন করা হয় এবং সদস্যদের উদ্দেশে আগামী বছরে আরও জাঁকজমকপূর্ণ মহামিলনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
