বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ইন্টেরিয়র মিস্ত্রী সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন না-মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো ১০টি মামলায়ও তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে জামিন পাননি। পরে তিনি উচ্চ আদালতে গিয়ে জামিন পান।
সোমবার ছিল মামলার ধার্য তারিখ। এ দিন বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা আক্তারের আদালতে মামলা উঠলে আইভীর জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে একটি ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। আগুনে পুড়ে মারা যান ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজে নিয়োজিত মিস্ত্রী সেলিম মণ্ডলসহ তিন শ্রমিক। এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ জুন ওয়াজেদ আলী নামের এক কৃষক বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্তে আইভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে দাবি করে ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতের মাধ্যমে আইভীকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখায় পুলিশ।
এ নিয়ে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জেলার বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মোট ১১টি মামলায় আইভীকে আসামি করা হয়েছে। তবে ১০টি মামলায় এরই মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫টি মামলার ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে এটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ডিভিশনে শুনানির অপেক্ষায় আছে।
সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আইভী এর আগে ১০টি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। আমরা এই মামলাতেও তার জামিনের আবেদন করেছি। ১০ মামলায় জামিনের নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করেছি। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করে আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্টের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করব।’
২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবন চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।
