English

32 C
Dhaka
বুধবার, আগস্ট ১৭, ২০২২
- Advertisement -

ভারতীয় প্রেমিককে হত্যায় নারীর যাবজ্জীবন

- Advertisements -

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চাঞ্চল্যকর আজব লাল ইয়াদব (৫০) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে বিষপান করিয়ে হত্যার দায়ে নাসিমা আক্তার (৩০) নামে এক নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মে) দুপুরে পাবনার বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় দেন।

Advertisements

দণ্ডপ্রাপ্ত নাসিমা আক্তার ঈশ্বরদীর কালিকাপুর গ্রামের সাইফুল্লাহর মেয়ে। রায় ঘোষণাকালে তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৬ মে ঈশ্বরদীর কালিকাপুর গ্রামের সাইফুল্লাহর বাড়ি থেকে বিষক্রিয়ায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আজব লাল ইয়াদবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় ওই বাড়ির মালিক সাইফুল্লাহর মেয়ে নাসিমাকে আসামি করে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক একটি হত্যা মামলা করেন।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৮ মে ঈশ্বরদীর ঢুলিটস্থ রশিদ ওয়েল মিলে রিফাইনারি ইনচার্জ হিসেবে যোগ দেন ইয়াদব। ২০১৭ সালের ৬ মে সন্ধা পর্যন্ত সেখানে তিনি কর্মরত ছিলেন। তার কর্মস্থলের পাশেই দাশুড়িয়া চক্ষু হাসপাতালে রিসিপশনে চাকরি করতেন নাসিমা। পাশাপাশি চাকরি করার সুবাদে আসা যাওয়ার পথে দেখা করতে করতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় নাসিমাকে প্রলোভন দেখানো হয়- তাকে ভারতে নিয়ে যাবে, ১০ তলা বাড়ি করে দেবে। তার বাবাকেও অনেক টাকা দেওয়া হবে। এরপর দুজনের মাঝে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। নাসিমা বারবার বিয়ের জন্য চাপ দিলেও ইয়াদব বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য চলতে থাকে। সুযোগ বুঝে সেদিন রাতে দাওয়াত দিয়ে ডেকে নিয়ে খাওয়া শেষে একটি জুসের মধ্যে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নাসিমাকে আটক করা হয়।

Advertisements

দীর্ঘ শুনানির পর আজ(১০ মে) আদালত হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে নাসিমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অনুমতি পেলেই আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। সেখানে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে আসামি বেকসুর খালাস পাবেন ইনশাআল্লাহ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেওয়ান মজনুল হক বলেন, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। উচ্চ আদালতে আপিল করলেও সাজা কমার কোনো সুযোগ নেই।

 

সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন