নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনের আবেদন আবারও নাকচ করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় তার জামিন আবেদন নাকচ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় একটি ভবনে আন্দোলনকারীরা অগ্নিসংযোগ করে। এ ভবনে ডাচ বাংলা ব্যাংকের সিদ্ধিরগঞ্জ শাখা অবস্থিত। ঘটনার সময় ব্যাংকে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ চলছিল। ব্যাংকের ভেতরে আটকে আগুনে পুঁড়ে মারা যান ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের ইন্টিরিয়র ডেকোরেশনের কাজে নিয়োজিত মিস্ত্রী সেলিম মন্ডলসহ তিন শ্রমিক।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন ওয়াজেদ আলী নামের এক কৃষক বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায় আদালতের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ।
এ নিয়ে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জেলার বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মোট ১১টি মামলায় আইভীকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি মামলায় ইতিমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন। আরো পাঁচটি মামলার জামিন আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে।
সোমবার আদালতে জামিন শুনানিতে অংশ নেন বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের আইনজীবীরা। দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে আইভীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানি শেষে সেলিনা হায়াত আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১১ নম্বর মামলা। এজাহারে তার নাম না থাকা সত্ত্বেও তাকে এই মামলায় বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমরা নিম্ন আদালতে ন্যায়বিচার পাইনি। এ আদেশের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনায় সেলিম মণ্ডল নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক মেয়রের নির্দেশ বা সম্পৃক্ততা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে আসামিপক্ষ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছে।
