নাসিম রুমি: কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) নিশ্চিত করেছে যে তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশ মেনে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিয়েছে। সম্প্রতি আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত মিনি নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ানো এই খেলোয়াড়কে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিটি অনুসরণ করেছে।
কেকেআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কলকাতা নাইট রাইডার্স নিশ্চিত করছে যে আইপিএলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিসিসিআই/আইপিএল তাদের নির্দেশ দিয়েছে, আসন্ন আইপিএল মৌসুমের আগে মোস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দিতে। এই পদক্ষেপটি যথাযথ প্রক্রিয়া এবং পরামর্শ অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিসিসিআই আইপিএল বিধিমালা অনুযায়ী কেকেআরকে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতি দেবে, এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।’
প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘু হত্যা ও বাংলাদেশ বিরোধী আবহই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও, ফ্র্যাঞ্চাইজিটি স্বেচ্ছায় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারত না, কারণ তা আইনগত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারত। যদি কেকেআর নিজ উদ্যোগে তাকে ছেড়ে দিত, মোস্তাফিজ আইনগত সহায়তা চাইতে পারতেন।
মূলত বিসিসিআইয়ের নির্দেশনাতেই কেকেআর মোস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল। নিলামে সাতজন বাংলাদেশি খেলোয়াড় ছিলেন, তবে অন্য কেউ নির্বাচিত হয়নি। মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার সময় দুই ফ্র্যাঞ্চাইজিও প্রতিযোগিতায় ছিল-দিল্লি ক্যাপিটালস ২.২ কোটি রুপিতে দর শুরু করে ৫.২ কোটি পর্যন্ত যায়, চেন্নাই সুপার কিংস ৯ কোটি রুপিতে পৌঁছে। শেষ পর্যন্ত কেকেআর ৯.২ কোটি রুপিতে তাকে দলে ভেড়ে। মোস্তাফিজের আগে তিনি চেন্নাই সুপার কিংস, দিল্লি ক্যাপিটালস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলেছেন।
একজন সিনিয়র আইপিএল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিজের উদ্যোগে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারত না। এটা বিসিসিআইয়ের নির্দেশিত সিদ্ধান্ত হতে হবে। আইপিএল বিধিমালা ফ্র্যাঞ্চাইজি ও খেলোয়াড়দের চুক্তির বাইরে গিয়ে কোনো স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের অনুমতি দেয় না।’
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ঘোষণা করার পর পরিস্থিতি পরিষ্কার হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশি খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া যদি তারা বিকল্প খেলোয়াড় চান, বিসিসিআই তা অনুমোদন করবে,’-যার পেছনের কারণ হিসেবে তিনি ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’ উল্লেখ করেছেন।
