হায়দরাবাদের বিপক্ষে জয়সূচক পারফরম্যান্সের পর নিজের ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে ফিরছেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি। সেখানে কলকাতার দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তিনি প্রতিপক্ষকে নীরব সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।
টানা তিন ম্যাচে জয়হীন কলকাতা দল বৃহস্পতিবার লখনউর দলের মুখোমুখি হবে। এটি তাদের টানা তৃতীয় ঘরের মাঠের ম্যাচ।
মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে কলকাতার অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে ও সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিংয়ের পাশে বসে শামি বলেন, ‘ইডেন গার্ডেন্সে খেললে সবসময় ঘরের মাঠের সুবিধা থাকে। এখানে অনেক দিন খেলার কারণে উইকেট ও পরিস্থিতি ভালো বোঝা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি এখানে কলকাতার বিপক্ষে খেলি, তাহলে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাব।’
এর আগে হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেন শামি। ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ১৮টি ডট বল করেন তিনি, যা দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই ম্যাচে ঋষভ পন্তের নেতৃত্বাধীন দল পাঁচ উইকেটে জয় পায়।
ইনজুরি থেকে ফেরার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেললেও এখনো জাতীয় দলে ফিরতে পারেননি শামি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রঞ্জি ট্রফিতে তিনি সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের মধ্যে ছিলেন, ৩৭টি উইকেট নিয়েছেন গড় ১৬ দশমিক ৭২।
বেঙ্গল দলকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এক ম্যাচে ৯০ রানে ৮ উইকেট নেওয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও ছিল তার, যদিও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন জম্মু ও কাশ্মীরের কাছে হেরে যায় তার দল।
নিজের সাফল্যের রহস্য সম্পর্কে শামি বলেন, ‘আমরা শ্রমিকের মতো, আমাদের কাজ শুধু বল করা। জীবনে ওঠানামা থাকবে—ইনজুরি আসবে, কিন্তু পরিশ্রম ভুলে গেলে চলবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত চাকচিক্যের পেছনে ছুটলে সেটাই দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়। এখন সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে ব্যস্ত।’
উত্তর প্রদেশে জন্ম হলেও বেঙ্গলকে নিজের কর্মভূমি হিসেবে উল্লেখ করে শামি বলেন, ‘আমি কৃষক পরিবারের সন্তান, নিজের শিকড় ভুলিনি। একজন খেলোয়াড় হিসেবে এখনো আমার সেই ক্ষুধা আছে। সেই পর্যায়ে ফিরতে চাইলে ভেতরে তাগিদ থাকতে হবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমার কাছে ঘরোয়া ক্রিকেট সব ধরনের ক্রিকেটের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন আমার ভেতরে খেলার শক্তি থাকবে, ততদিন আমি বেঙ্গলের হয়ে খেলতে থাকব।’
