আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে গিয়ে বড় বাধার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট দল। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত চারজন মার্কিন ক্রিকেটারকে ভারত ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে, যা তাদের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ভিসা না পাওয়া খেলোয়াড়দের একজন হলেন পেসার আলী খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আলী খান একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ভারত ভিসা দিচ্ছে না।
পরে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ, এটি সত্য যে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত তিনজন খেলোয়াড়কে ভারতীয় ভিসা দেওয়া হয়নি। এর ফলে আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারছি না,’—টেলিকমএশিয়া ডটনেটকে জানান আলী খান।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ২০ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আলী খানের পাশাপাশি যাদের ভিসা সমস্যা হয়েছে তারা হলেন শায়ান জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মহসিন ও এহসান আদিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চারজনই পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করলেও বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে ভারতের ভিসা নীতিমালা অনুযায়ী, পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নিজ দেশের জন্মসূত্রে পাওয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করেই ভিসার আবেদন করতে হয়-যা এই জটিলতার মূল কারণ।
এই সমস্যা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই নয়। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, নেপাল, কানাডা, ইংল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও নেদারল্যান্ডসসহ মোট আটটি দেশের ক্রিকেটাররাও একই ভিসা জটিলতায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এহসান আদিলের জন্ম পাকিস্তানের শেখুপুরায়। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানের হয়ে তিনটি টেস্ট ও ছয়টি ওয়ানডে খেলেছেন। চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি এবং বর্তমানে কিংসম্যান ইউএসএর হয়ে খেলছেন। আলী খানের জন্ম পাঞ্জাবের আটক জেলায়, শায়ান জাহাঙ্গীরের করাচিতে এবং মোহাম্মদ মহসিনের খাইবার পাখতুনখোয়ার মিংগোরায়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতেও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা এমন ভিসা সমস্যার মুখে পড়েছেন। ২০১৯ সালে জুলফিকার ভাইদ্বয়-সিকান্দার ও সাকিব ভিসা পাননি। ২০২৩ বিশ্বকাপে শিরাজ আহমেদের ভিসা পেতেও দেরি হয়েছিল। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার উসমান খাজা (২০১৭) এবং ইংল্যান্ডের স্পিনার রেহান আহমেদ ও শোয়েব বশির (২০২৪) একই ধরনের সমস্যায় পড়েছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
