English

34 C
Dhaka
মঙ্গলবার, মে ১৭, ২০২২
- Advertisement -

ঈশ্বরদীতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: তিনজন আহত

- Advertisements -

দোকানের অবৈধ দখল ছাড়তে ও ভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই ঘটনায় ছাত্রলীগের শুভ, আওয়ামী যুবলীগের কালাম ওরফে পাঠা কালামসহ তিনজন আহত হয়েছে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে গুলি বর্ষণ করায় অস্ত্রসহ ছাত্রলীগের আমজাদ হোসেন অবুজ ও আকমালকে গ্রেপ্তার করেছে।

আজ বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ মোড় ও হাসপাতাল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

Advertisements

প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা সূত্র মতে, ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কলেজ রোডস্থ ছকিনা মার্কেটের দুটি দোকান অবৈধভাবে দখল করে অফিস দোকনদারি করে আসছেন। ঘটনার দিন সকালে ওই মার্কেটের মালিকের ছেলে ছাত্রলীগকর্মী শুভর পক্ষে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের প্রস্তাবিত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম রাতুল হাসান মার্কেটে গিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি রনিকে দোকান ছেড়ে দেওয়া ও বকেয়া ভাড়া প্রদানের হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে রাতুল ও শুভ আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য চিঠি প্রস্তুত করতে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগ সভাপতি রনি সশস্ত্র লোকজন নিয়ে রাতুল ও শুভর ওপর হামলা চালায়। রনি ধারালো চাকু দিয়ে রাতুলকে বুকে, পিঠে, শরীরে আঘাত করে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাতুলকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেও ছাত্রলীগ সভাপতি রনি সশস্ত্র দলবল নিয়ে রাতুলকে দ্বিতীয় দফায় চাকু বিদ্ধ করে। খবর পেয়ে রাতুলের পক্ষের লোকজনও সশস্ত্রভাবে রনি গ্রুপকে ধাওয়া করে।

মুহূর্তের মধ্যে কলেজ রোড ও হাসপাতাল মোড় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে যায়। দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দুই গ্রুপকে ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গুরুতর আহত রাতুলকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও শুভকে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

Advertisements

দুপুর ২টার দিকে রাতুল গ্রুপের লোকজন সশস্ত্র হয়ে রনি গ্রুপের পাঠা কালামের ঝুপড়ি ঘর ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে ছাত্রলীগ সভাপতি রনির অফিসে ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় আবারো দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে যায় পুরো মোড়। রাস্তায় যানবাহন ও জনশূন্য হয়ে পড়ে।

অবস্থা বেগতিক দেখে পাবনা থেকে আনা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। থানা ও অতিরিক্ত পুলিশের উপস্থিতিতে গুলি বর্ষণ করায় অস্ত্রসহ রাতুল গ্রুপের আকমাল হোসেন ও আজমাদ হোসেন অবুজকে আটক করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি রনিকেও আটক করে পুলিশ।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুজ্জামান আসাদ সন্ধ্যা ৭টায় জানান, অস্ত্রসহ আকমাল হোসেন ও আমজাদ হোসেন অবুজকে আটক করা হয়েছে। ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রনিকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সুপারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। শহরের কলেজ রোড ও হাসপাতাল মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে শহরে পুলিশি টহল রাখা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন