গাইবান্ধায় প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভুয়া দুই অফিসারকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসার পরিচয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড সংক্রান্ত প্রতারণা করে আসছিলেন তারা।
গ্রেপ্তাররা হলেন, সদর উপজেলার শিবপুর এলাকার মৃত কল্লোল সরকারের ছেলে দাইয়ান শহীদ দীপ সরকার (২৫) এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাওভাঙ্গা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে সোহানুর রহমান শান্ত (২৭)
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই ও মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা মীর কায়েস।
একইদিন ভোরে উপজেলার বড়দহ ব্রীজের উপর থেকে তাদের আটক করা হয়।
এসময় তাদের কাছে থেকে দুইটি মোবাইল ফোন ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি হিরো মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৭ মে গোবিন্দগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত একটি প্রতারণার মামলার গ্রেপ্তারকৃত আসামী আশরাফুলের বাড়ীতে এই দুইজন সহ আরও কয়েকজন ছিলো বলে ধারণ করা হচ্ছে।
সেদিন পুলিশ ও যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যান। তখন থেকে তাদেরকে খুঁজছিলো পুলিশ।আজ ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পূর্বের ওই প্রতারণা মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতে তোল হয়। আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।পুলিশ ও ওই মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ মে থানায় দায়েরকৃত মামলার গ্রেপ্তারকৃত আসামী আশরাফুলের বাড়ী হতে পলাতক আসামী হাদিসুর রহমান রনির ব্যক্তিগত ডাইরি, তার সেনাবাহিনীর মেজর পদবী পোশাক পরিহিত অবস্থায় একটি থ্রীআর সাইজের ছবি, বিভিন্ন কোম্পানির ৫০ টি সিমকার্ড ,একটি প্রিন্টার, একটি পিসি, বিভিন্ন কোম্পানির চারটি মনিটর, একটি আইফোন, একটি ল্যাপটপ, দুইটি সিসিটিভি ক্যামেরা ও একটি হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়।পরে গ্রেপ্তার আসামী আশরাফুলের জবানবন্দী অনুযায়ী উপজেলার উত্তর সিংগা গ্রামের জুয়েল মিয়ার বাড়ীতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এসময় ওয়ানপ্লাস এন্ড্রোয়েড স্মার্টফোনসহ বাটন মোবাইল ফোন ১০টি, গ্রামীণ, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেলের ২৩৮০ পিস সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ সহ বিভিন্ন নোটের ২৪ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। পরে আশরাফুল, হাদিসুর রহমান রনি ও নামীয় কয়েকজনসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ওই প্রতারণার মামলা হয়।মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা মীর কায়েস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তার দুজন নিজেদের সমাজসেবার অফিসার পরিচয় দিয়ে গ্রামের সহজ-সরল গরীব মানুষদের বিভিন্ন সরকারি ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা ও এনআইডির ছবি তুলে প্রতারণা করে আসছিলেন। এরআগে এ সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। আজকের দুইজনকে ওই মামলার অজ্ঞাত নামা আসামী হিসেবে কোর্টে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়।