লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদের মারধরে ওই পরিবারের এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত গৃহবধূকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডাকাতরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
রবিবার (১ মার্চ) রাত আনুমানিক তিনটার দিকে উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার হাজিপাড়া সংলগ্ন প্রবাসী বেল্লাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, চরমার্টিন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী বেল্লাল হোসেন শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ছেলের বিয়ের উদ্দেশ্যে দেশে ফেরেন। রবিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে একদল ডাকাত ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা ঘরে ঢুকেই বেল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী মারজাহানকে দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে ফেলে। পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই ডাকাতি শেষে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
ভুক্তভোগী বেল্লাল হোসেন জানান, ডাকাতরা স্টিলের আলমারির চাবির জন্য তাকে ও তার স্ত্রীকে ব্যাপক মারধর করে। একপর্যায়ে ডাকাতরা তার স্ত্রীর শরীরের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং প্রচণ্ড মারধর করে । এতে তার স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে ডাকাতরা আলমারি ভেঙে প্রবাস থেকে আনা দুটি স্বর্ণের চেইন, ডলার ও নগদ টাকাসহ অন্তত ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে তার স্ত্রী ডাকাতদের মধ্যে একজনকে চিনতে পেরেছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
বেল্লালের ভাতিজী তাছলিমা বেগম জানান, রাত আনুমানিক তিনটার দিকে চাচির চিৎকার শুনে আমরা ছুটে যাই। গিয়ে দেখি ডাকাতরা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ঘরে ঢুকে দেখি চাচি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন এবং ঘরের সব আসবাবপত্র ও মালামাল ছড়ানো-ছিটানো।
তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন প্রবীন বয়সি বাসিন্দা ও একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, বেল্লালের চাচা, চাচাতো ভাইদের সাথে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনার আগে গত মাসের ২৫ তারিখে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে।
এছাড়া ডাকাতির ঘটনা ঘটার বিষয়ে এলাকার উল্লেখযোগ্য কাউকে জানানোর প্রয়োজন মনে না করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তড়িঘড়ি করে কোর্টে মামলা করতে যাওয়াটা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখছেননা তারা। তারা ঘটনাটি পরিকল্পিত আখ্যা দিয়ে বলছেন তবে কী ঘটনা ঘটার আগেই মামলা তৈরির কাজ চলছিল!।
এবিষয়ে হাজিরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ফাঁড়ি ইনচার্জ আজাদ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখবেন তিনি। এবিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
