বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জামায়াত নেতা হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলামকে (৪১) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১২। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোমবার (২ মার্চ) ভোরে পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে রবিবার (১ মার্চ) সকালে শহরের মাহবুবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল ইসলাম বগুড়া শহরের খান্দার এলাকার মৃত নওশেদ আলীর ছেলে। তাঁর আদি বাড়ি নন্দীগ্রাম উপজেলার রামকৃষ্ণপুর এলাকায়। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র বগুড়া শহর শাখার ওলামা বিভাগের রুকন ও দায়িত্বশীল ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন শহর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ইকবাল হোসেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বিক্রম (৩২) এবং মোছা. বেবী খাতুন (৫২)। তাঁরা দুজনই শহরের ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ১ মার্চ সকালে সাইফুল ইসলাম তার ক্রয়কৃত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষ ইয়ার মোহাম্মদ ও তাঁর সহযোগীরা সেখানে গিয়ে কাজে বাধা দেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ইয়ার মোহাম্মদ একটি চাকু বের করে সাইফুলের তলপেটে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের দুলাভাই মো. আলী আজম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ জানান, মামলার পর আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। সোমবার ভোরে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মোহনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ইয়ার মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়। একই দিন ভোরে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকা থেকে বেবী খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আসামিদের বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
