খুলনার রূপসা নেশা করার জন্য ৫০০ টাকা না পেয়ে মাকে খুন করেছেন ছেলে। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম মিম্মি বেগম। তিনি আইচগাতি ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় আ. সালামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি কাপড়ের ব্যবসা করতেন। আর অভিযুক্ত ছেলের নাম নাদিম ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রুপসা থানার আইচগাতি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. উজ্বল হোসেন বলেন, আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই নাদিম ইসলাম তার মায়ের কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেন। তার মা সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ছেলের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয় তার। একপর্যায়ে নিজের মায়ের ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়েন নাদিম। পাশে থাকা লাঠি, এমনকি নোড়া দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন তার মাকে।
তিনি বলেন, মিম্মির চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনে পাশে থাকা লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করেন। ঘরের দরজা বন্ধ থাকার কারণে ঘরের টিনের চাল খুলে উদ্ধারের চেষ্টা চালায় স্থানীয়রা। ততক্ষণে ছেলে নাদিম তার মাকে মাথা থেঁতলে হত্যা করেছেন। মিম্মি রক্তাক্ত ও মাটিতে লুটিয়ে থাকিা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।
উজ্বল হোসেন বলেন, এ ঘটনার খবর পেয়ে সকাল ১০টায় তিনি আইচগাতি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নাদিমকে আটক করা হলে বিক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ছেলেটিকে ছাড়িয়ে নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশকে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়।
তিনি বলেন, পরে খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রূপসা সার্কেল) এ সাইফুল ইসলাম, রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আইচগাতি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আরও বলেন, পরে নাদিমকে উদ্ধার করে পুলিশ রূপসা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রূপসা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছে।
