English

31.4 C
Dhaka
রবিবার, আগস্ট ৩১, ২০২৫
- Advertisement -

বগুড়ার সিরিয়াল কিলার হেলাল: দীর্ঘদিন বাউল ছদ্মবেশে থাকলেও শেষ রক্ষা হলো না

- Advertisements -

বগুড়া শহরে একে একে তিনজনকে হত্যার পর বাউল সেজে ছদ্মবেশে ২০ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়িয়েছে হেলাল হোসেন ওরফে সেলিম ফকির ওরফে বাউল সেলিম ওরফে খুনি হেলাল (৪৫)। গত বুধবার কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছদ্মবেশী বাউল হেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার এড়াতে ছদ্মবেশে বাউল সেজে ঘুরে বেড়ানোর কথা স্বীকার করে খুনি হেলাল। আজ দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‌্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, ‘বাউল হেলালের বিরুদ্ধে যে ৩টি হত্যা মামলা রয়েছে, সবগুলোই বগুড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। সে বগুড়ার একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯৭ সালে বগুড়ার বিষ্ণু হত্যা মামলা, ২০০১ সালে বগুড়ার চাঞ্চল্যকর বিদ্যুৎ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি সে। এছাড়া ২০০৬ সালে রবিউল হত্যা মামলার আসামি ছাড়াও ২০১০ সালে বগুড়া সদর থানায় দায়ের করা একটি চুরির মামলায় ২০১৫ সালে সে গ্রেপ্তার হয়। ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।২০০০ সালে বগুড়া শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে বামহাতে আঘাত পায় সে এবং একপর্যায়ে বামহাত পঙ্গু হয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় এসে হাত লুলা হেলাল নামেও পরিচিত ছিল সে।

হেলাল র‌্যাবকে জানায়, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে এলাকায় মুদির দোকান করতো সে। পরে হত্যা-সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। চুরির মামলায় ২০১৫ সালে যখন জামিন পায়, তখন সে কৌশলে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চট্টগ্রাম চলে যায়। সেখানে কয়েকদিন অবস্থানের পর সিলেটে ছদ্মবেশ ধারণ করে কিছুদিন অবস্থান করে। বিভিন্ন সময় সে তার নাম পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন রেলস্টেশন ও মাজারে ছদ্মবেশে অবস্থান করতো। সে প্রায় ৭ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফেরারিভাবে জীবন যাপন করছে এবং গত চার বছর ধরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেল স্টেশনের পাশে একজন নারীর সঙ্গে সংসার করে আসছে। রেলস্টেশনে বাউল গান গেয়ে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।

এদিকে গত ৫ বছর আগে কিশোর পলাশ ওরফে গামছা পলাশ একটি গানের শুটিং করছিলেন নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনে। শুটিং চলার সময় রেললাইনের পাশ দিয়ে একজন বাউল যাচ্ছিল। তখন শুটিংয়ের পরিচালক তাকে গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। হেলাল মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করে। ভাঙা তরী ছেড়া পাল শিরোনামে গানের মডেল হিসেবে পরে তাকে দেখা যায়। ইউটিউবে গানটির ভিডিওচিত্র ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিপুল সংখ্যক দর্শক এই গানটি ইউটিউবে দেখেন। ৪৬ মিলিয়ন ভিউ হয় গানটির। এই গানটি যখন প্রচার হয় এবং বগুড়ার বিভিন্ন লোকজন দেখে। পরে এলাকাবাসী আমাদের জানান, সে বগুড়ায় বেশ কয়েকটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ছয় মাসের চেষ্টায় আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন বলে জানান তিনি।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/n2dr
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন