ময়মনসিংহের মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য। আরিফুল নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনার সময় তার সহযোগীরা পুলিশ সদস্যদের কুপিয়ে জখম করে।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নগরীর দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব।
তিনি জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলাম নামে এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তার সহযোগীরা। হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছে। তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। একজন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরিফুলের বাবা সাগর আলীকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন আগে স্থানীয় রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। রাসেল বর্তমানে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
তাকে নিয়ে আসার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে কয়েকশ লোক লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে আরিফুলকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
এসআই ফরিদ আহমেদ বলেন, হামলায় আহত ৫ পুলিশ সদস্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব বলেন, কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। আসামির বাবাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে র্যাব ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিসহ হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
