এভাবে দুই মাসে অন্তত ১৩ জন তরুণীকে নিজের শিকার বানিয়েছেন। অবশেষে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি নামে ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে রাব্বির ভয়ঙ্কর প্রতারণা ও নির্যাতনের চিত্র।বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।পুলিশ জানায়, রাব্বি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে নারী কণ্ঠে কথা বলে প্রথমে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন। কৌশলে একজন ভিকটিমের মোবাইল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেই ফোনের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তার বন্ধু তালিকায় থাকা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণীদের টার্গেট করতেন।পরে উপহার আদান-প্রদানের কথা বলে তাদের যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড় এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে ডেকে নিতেন। সেখানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতেন। পরে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য এবং অর্থ আদায় করতেন রাব্বি।ডিসি আহসান উদ্দিন সামী জানান, সম্প্রতি এক ভিকটিমকে ‘ফ্যামিলি মিট-আপ’র কথা বলে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন রাব্বি। পরে সেই ভিডিও ডার্ক সাইট ও টেলিগ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।একই কৌশলে আরেক ভিকটিমকে পোশাক ডেলিভারির কথা বলে ডেকে এনে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় এবং তার মোবাইল ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া আরও এক তরুণীর কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মিলেছে রাব্বির বিরুদ্ধে।পুলিশ জানায়, যাত্রাবাড়ী থানায় এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) দনিয়া কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভিকটিমের পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আহসান উদ্দিন সামী জানান, আসামির বিরুদ্ধে বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ, যার সবগুলোতেই একই ধরনের অপরাধের কৌশল পাওয়া গেছে। রাব্বি তার স্ত্রীকেও একই কৌশলে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন। তার সব ভিকটিমের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং অধিকাংশই মিরপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ বলছে, এ ধরনের অপরাধে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।