English

30 C
Dhaka
রবিবার, মে ২২, ২০২২
- Advertisement -

বাঁশখালীর এমপির সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবীতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

- Advertisements -
Advertisements
Advertisements

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের প্রথম প্রতিবাদকারী মৌলভী সৈয়দ আহমদের বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আলী আশরাফকে মৃত্যুও পর রাষ্ট্রীয় সম্মান “গার্ড অব অনার” প্রদান না করার পেছনে পরোক্ষভাবে ইন্ধনদাতা চট্টগ্রাম-১৬ আসনের (বাঁশখালী) সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।
মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য এবং এর প্রতিবাদে ৩ আগস্ট বাঁশখালীতে এবং ২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে ন্যাক্কারজনক হামলার দায়ে বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের সংসদ সদস্য পদ বাতিলসহ আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার এবং এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কমিটির পক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা হত্যাকান্ডের পর প্রথম প্রতিবাদকারী মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম শহর গেরিলা বাহিনীর উপ-প্রধান মৌলভী সৈয়দ আহমদের বড় ভাই বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ গত ২৬ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। এর পর প্রশাসনকে অবহিত করে পরদিন ২৭ জুলাই জানাযার সময় নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে গার্ড অব অনার প্রদান করতে পুলিশ বাহিনী উপস্থিত হলেও উপজেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা উপস্থিত হয়নি।
ফলে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ছাড়াই এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করতে হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধেও স্বপক্ষের মানুষ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের (বাঁশখালী) এম.পি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী একজন সাংবাদিকের সাথে টেলিফোনে আলাপে বলেন, বাঁশখালীতে কোন মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, বাঁশখালীতে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নাই ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরও কিছু বিরূপ মন্তব্য করেন। একজন সংসদ সদস্যের এমন মন্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধারা হতবাক হয়ে যান। এই এমপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেও এবং প্রয়াত নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সম্পর্কেও কটুক্তি করেছিলেন।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। জাতীয় পার্টির গন্ধ এখনও তার শরীর থেকে যায়নি। ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারী সাঈদীর পুত্র শামীম বিন সাঈদীর অনুষ্টানে তার সম্মতিক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে এই এমপি’র পোস্টার-ব্যানার সাঁটানো হয়েছিল। বিক্ষোভ প্রতিবাদের মুখে সে সময় অনুষ্ঠানে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি।
২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভায় তার বিরুদ্ধে জামাত প্রীতির অভিযোগ তোলেন জেলা আইনজীবি সমিতির তৎকালীন সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট মুজিবুল হক। একারণে মুজিবুল হকের দিকে জুতা নিয়ে তেড়ে যান এমপি মোস্তাফিজ। বাঁশখালী জামাত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। জামাত নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী মানবতা বিরোধী অপরাধে দন্ডিত হবার পর এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের মদদে বাঁশখালীতে নারকীয় তান্ডব চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ আনা হয়। জাতীয় দিবস গুলোতে জামাত নেতাদের নিয়ে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক প্রদান, জামাত ঘরানার লোককে কাজী নিয়োগসহ জামাত প্রীতির অভিযোগ সাংসদের বিরুদ্ধে।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ডাঃ আলী আশরাফকে রাষ্ট্রীয় সম্মান “গার্ড অব অনার” প্রদান না করা, এমপি মোস্তাফিজুর রহমান কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে গত ২৪ আগস্ট সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্ত্বরে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে এমপি’র নেতৃত্বে বাঁশখালী থেকে ট্রাক যোগে সন্ত্রাসী বাহিনী এসে অতর্কিত হামলা চালায়। সমাবেশের মাইক কেড়ে নিয়ে ভাংচুর ও তান্ডব চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলায় মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ বিভিন্ন পেশার অন্ততঃ ২০ জন আহত হয়।
বাঁশখালীর এম.পি মোস্তাফিজুর রহমানকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার মূল নায়ক আখ্যায়িত করে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলসহ আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার ও হামলাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবী জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, মহানগরীর সহকারী কমান্ডার মোঃ খোরশেদ আলম (যুদ্ধাহত), সাতকানিয়া কমান্ডার আবু তাহের এলএনজি, চন্দনাইশ কমান্ডার জাফর আলী হিরু, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ রতন কুমার নাথ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের উপদেষ্টা মোঃ জসীম উদ্দিন চৌধুরী, মহানগর কমিটির আহবায়ক সাহেদ মুরাদ সাকু, জেলা কমিটির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মশিউজ্জামান সিদ্দিকী পাভেল, যুগ্ম আহবায়ক তানজীর কাদেরী, সদস্য আরফাতুল মান্নান ঝিনুক, ফয়সাল জামিল সাকি, মোশাররফ হোসেন, শফিকুল মুনির মোঃ আরমান, শেখ সাদী, খোকন, ইশতিয়াক আহমেদ প্রমুখ।

সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন