চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের একটি গর্তে পড়ে যাওয়া মো. মিছবাহ (৩) নামের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর আজ বুধবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, উদ্ধার শিশুকে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামে একটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় শিশুটি। নিহত মিছবাহ ওই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।
ওসি সাজেদুল ইসলাম আরও জানান, শিশুটি কীভাবে নলকূপের গর্তে পড়ে যায়, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নলকূপটির প্রকৃত গভীরতা সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধারকারী দল আনুমানিক ১২ ফুট নিচে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে নির্মিত বসতঘরের পাশে সুপেয় পানির জন্য সরকারি অর্থায়নে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। টিলাভূমি হওয়ায় সেখানে গভীর গর্ত খনন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি অনিরাপদ অবস্থায় ছিল। খেলতে খেলতে শিশুটি ওই গর্তে পড়ে যায় বলে জানান তারা।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের লাঠি ব্যবহার করে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। একটি ভিডিওতে এক যুবককে শিশুটিকে বাঁশ ধরে রাখতে বলতেও শোনা যায়।
রাউজান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সামশুল আলম জানান, বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে খবর পেয়ে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে রাত ৮টা ১০ মিনিটে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয়দের টানা ৩২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
