মোঃ আলাল উদ্দিন: ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভৈরব আইডিয়াল স্কুলের উদ্যোগে স্কুল প্রাঙ্গণে গত ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী বর্ণিল ও আনন্দঘন পিঠা উৎসব। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এ উৎসবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
উৎসবের প্রথম দিনে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন ভৈরব আইডিয়াল স্কুলের সভাপতি ও পরিচালক অধ্যক্ষ শরীফ উদ্দীন আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্কুলের পরিচালক ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান, পরিচালক ও সরকারি হাজী আসমত কলেজের প্রভাষক লুবনা হক এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ।
শুভ উদ্বোধনের পর অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন পিঠার স্টল পরিদর্শন করেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মোট ১০টি স্টলে বাহারি শীতের পিঠা, মিষ্টান্ন, কেকসহ নানাবিধ খাবারের আয়োজন দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আজিমুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের পরিচালক ও ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জাহিদুল হক জাবেদ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব রিপোর্টার্স ক্লাব ও ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাল উদ্দিন, আফছর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম রিপন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাংবাদিক, অভিভাবক, সংস্কৃতিকর্মী এবং বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের এক হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্ত তৈরি হয় যখন আলহাজ্ব মোঃ জাহিদুল হক জাবেদের উদ্যোগে কয়েকজন সুবিধাবঞ্চিত টোকাই শিশুদের পিঠা খাওয়ানো হয় এবং তাদের মধ্য থেকে একজন শিশুকে অতিথি হিসেবে মঞ্চে তুলে এনে কেক কাটানো হয়। এ মানবিক উদ্যোগ উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ এইচ এম আজিমুল হক বলেন, “পিঠা উৎসব বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।”
আয়োজকরা জানান, এ পিঠা উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলার লোকজ সংস্কৃতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি দলগত কাজ, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভৈরব আইডিয়াল স্কুলের এই আয়োজন শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
