ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। এর জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে দাম ১০০ ডলার ছুঁতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে প্রবেশ করত। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির বড় অংশই এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বর্তমানে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় বাজারে প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের নিট ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনার্জি ও রিফাইনিং বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইসিআইএস–এর ডিরেক্টর অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলার ফলে তেলের দাম বাড়া স্বাভাবিক হলেও মূল উদ্বেগের বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়া।
তিনি বলেন, “সপ্তাহ শেষে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি চলে যেতে পারে। প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে দাম আরও বাড়বে।”
প্রখ্যাত জ্বালানি গবেষণা সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জি জানিয়েছে, সোমবার (২ মার্চ) বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
সংস্থাটির মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়াই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
তেলের দাম ২০ ডলার বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। এতে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
