English

27 C
Dhaka
বুধবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৪
- Advertisement -

অপব্যবহার বন্ধ করুন: অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারাচ্ছে

- Advertisements -
দেশে অ্যান্টিবায়োটিক বা ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বেশির ভাগ অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারিয়েছে। অর্থাৎ এগুলো জীবাণু ধ্বংস করতে পারছে না। এতে চিকিৎসা দীর্ঘায়িত হচ্ছে, চিকিৎসার খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রোগী মারা যাওয়ার হারও ক্রমেই বাড়ছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, জীবাণুরা ক্রমেই বেশি করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার কারণে দেশে প্রতিবছর এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এমন প্রেক্ষাপটে একটি গবেষণার ফলাফল নিয়ে গতকাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণাটি পরিচালনা করে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ১২টি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের ১৩ হাজারের বেশি রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে এক হাজার ১৪৯টিতে বহু ওষুধ প্রতিরোধী (মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট বা এমডিআর) জীবাণু পাওয়া যায়।
অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়া নিয়ে সারা পৃথিবীতেই রীতিমতো তোলপাড় চলছে। এর জন্য মূলত দায়ী করা হয় অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারকে। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ ধরনের অপব্যবহার সবচেয়ে বেশি। অ্যান্টিবায়োটিক ক্রয়ের জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের প্রয়োজন হয় না।
সামান্য জ্বর, সর্দি, পেট খারাপে মানুষ নিজেরাই দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খায়। কোর্স শেষ করার ধার ধারে না। এতে জীবাণুরা ক্রমেই এসব ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে এ নিয়ে আগেও অনেক গবেষণা হয়েছে, কিন্তু অপব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। দিন দিন পরিস্থিতির আরো অবনতি হচ্ছে।
এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ‘সংক্রামক ব্যাধি চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও কার্যকারিতার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, দেশের হাসপাতালগুলোতে যেসব সংক্রমণ নিয়ে রোগীরা ভর্তি হয়, এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ।
এসব ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ব্যবহৃত সব অ্যান্টিবায়োটিক ৯০ শতাংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে তৃতীয় ধাপের বা সর্বোচ্চ পর্যায়ের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন, যেগুলো সাধারণত ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ব্যবহৃত হয়। উপসংহারে বলা হয়, এর পরও অপব্যবহার বন্ধ করা না গেলে অচিরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিকের আরো অনেক ধরনের অপব্যবহার হতে দেখা যায়। বিভিন্ন সময় গবেষণায় উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক সময়ে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগির খামারেও ব্যাপক হারে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্যবহারের সঠিক মাত্রাও মানা হচ্ছে না।
এসব প্রাণীর মাংস মানুষ খেলে সেই অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের শরীরেও চলে আসে এবং তাতে জীবাণুরা ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। অনেক চিকিৎসকও অপ্রয়োজনে রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ৮৭ শতাংশের বেশি করোনা রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন ছিল সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ রোগীর। আবার গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, ৩৩ শতাংশ রোগী হাসপাতালে আসার আগে কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খেয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিকের এ ধরনের অপব্যবহার কোনোমতেই কাম্য নয়।
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিকিৎসক, রোগী ও ওষুধ বিক্রেতা সবাইকে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে।
সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন