English

28 C
Dhaka
শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৪
- Advertisement -

খালগুলো নাব্য করুন: পাইকগাছায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ

- Advertisements -
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়ন ও আশপাশের ১০ হাজারের বেশি কৃষক। বছর তিনেক আগে মরা কপোতাক্ষ নদের খনন শুরু হওয়ায় তাঁরা আশার আলো দেখেছিলেন।কিন্তু দুর্ভাগ্য, খনন শেষ হয়ে এলেও তাঁদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং আরো বেশি দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। বর্ষায় বৃষ্টির পানি নামার জন্য বিল এলাকায় থাকা খালগুলোর সংস্কার তো হয়ইনি, উপরন্তু খালের মুখে তৈরি করা হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ ফুট বাঁধ।
ফলে এলাকার যে জমিতে আগে বছরে তিন ফসলের আবাদ হতো, সেসব জমিতে এখন একমাত্র বোরো ধানের সীমিত চাষাবাদ হয়। তা-ও আগাম বর্ষায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। কিন্তু সেসব মানুষের আহাজারি ও দীর্ঘশ্বাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছায় না।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে যশোরের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের (২য় পর্যায়)’ খননকাজ শুরু করে। এই প্রকল্পে কপোতাক্ষ নদের উজান অংশে যশোরের চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর থেকে মণিরামপুর উপজেলার চাকলা সেতু পর্যন্ত ৭৫ কিলোমিটার এবং নিচের অংশে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া থেকে কয়রা উপজেলার আমাদী পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার নদী খনন, তীর রক্ষা কাজ বাস্তবায়ন, নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত, কপোতাক্ষ নদের দুই তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত করা হচ্ছে।
৫৩১ কোটি সাত লাখ টাকার এই প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা, কিন্তু নদটি খনন করা হলেও রাড়ুলী ইউনিয়নসহ আশপাশের সংযুক্ত খালগুলো উন্মুক্ত হয়নি। ফলে এসব খালের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার বিঘা জমির জলাবদ্ধতা সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
তাঁদের মতে, এখন তাঁরা আরো বেশি বিপাকে পড়েছেন।
কারণ আগে কিছু পানি খাল দিয়ে বেরোতে পারত। আবার পাম্পের সাহায্যে পানি অপসারণ করেও কিছু কৃষিকাজ করা যেত। এখন খাল ও খালের মুখে চওড়া বাঁধ থাকায় তা-ও সম্ভব হচ্ছে না। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েও কোনো সুফল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা যশোর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জির কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না।…খালগুলোতে যাতে দ্রুত নদী সংযুক্ত করা যায়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
আমরাও আশা করি, এলাকার হাজার হাজার কৃষকের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং স্থায়ীভাবে খালগুলোকে নাব্য করা হবে।
সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন