English

34 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৬, ২০২২
- Advertisement -

জনজীবনের দুর্দশা দূর করুন: বিপর্যস্ত উপকূল

- Advertisements -
Advertisements
Advertisements

কক্সবাজার থেকে শুরু করে সাতক্ষীরা পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় এলাকার জনজীবন চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছিল। তার কিছুটা প্রভাব ছিল বাংলাদেশের উপকূলে। সেই সঙ্গে ছিল পূর্ণিমার টান।

ফলে কয়েক দিন ধরে উপকূলজুড়ে বিশাল এলাকা দিনে দুবার করে তলিয়েছে জোয়ারের পানিতে। বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে তিন-চার ফুট বেশি উচ্চতায় ভেতরে প্রবেশ করছে। ফলে শিকার ও শিকারি প্রাণীরা একসঙ্গে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
দেশে ভোগ্য পণ্যের প্রধানতম পাইকারি বাজার চট্টগ্রাম মহানগরীর চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে জোয়ারের পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু দোকানের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। নগরীর অন্যান্য এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও কোমর সমান পানি দেখা গেছে। ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ অন্যান্য জেলায়ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আমন বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে।
বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, উপকূলীয় এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। কোনো কারণে একটু অস্বাভাবিক জোয়ার হলেই বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক স্থানে বেড়িবাঁধেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলায় কয়েক জায়গায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে থাকায় রবিবার স্থানীয়রা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করে। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও তারা সফল হতে পারেনি। দুপুরে বেশি উচ্চতার জোয়ারে তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। উপকূলীয় জনজীবন রক্ষায় সরকার অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নের গতি ও মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে।
অনেক স্থানে নির্মিত বাঁধে বছর না ঘুরতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি মেগাপ্রকল্প নেওয়া হয়। পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলেও সেগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়নি। ফলে বর্ষায় নগরীর বেশির ভাগ এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে থাকে।
বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের তিন-চতুর্থাংশ মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক নিচে নেমে যাবে। তার সত্যতাও ক্রমে স্পষ্ট হয়েছে। উপকূলীয় নিচু এলাকার বহু মানুষ বড় শহর বা অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় গিয়ে উদ্বাস্তু জীবনযাপন করছে। উপকূলীয় জনজীবন চরম দুর্দশাগ্রস্ত হওয়ার আগেই আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন মানসম্মত ও দ্রুততর করতে হবে।
সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন