English

33 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০২৪
- Advertisement -

দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: কিডনি প্রতিস্থাপনের নামে প্রতারণা

- Advertisements -
বাংলাদেশে অনেক দিন ধরেই কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে অবৈধ কারবার চলছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি জেলার অভাবী মানুষকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রলোভন দিয়ে কিডনি বিক্রিতে প্ররোচিত করে। আবার যাঁদের কিডনি প্রতিস্থাপন করা দরকার, তাঁরাও প্রতারণার শিকার হন। এমনই একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কিডনি প্রতিস্থাপন করা দরকার এমন দুজনের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন একজন প্রতারক। দুই ভুক্তভোগীর একজনের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে চুক্তি করে ২০২০ সালে ১৫ লাখ টাকা এবং আরেকজনের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে প্রতারক গাঢাকা দিয়েছেন। প্রতারিত হয়ে দুই রোগীই এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে।
চুক্তিপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র সূত্র অনুযায়ী ওই প্রতারক পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা গ্রামের বাসিন্দা।

ঢাকার রামপুরা এলাকায় স্ত্রীসহ থাকতেন। ওই প্রতারকের দুই সহযোগীও রয়েছেন।

বাংলাদেশেও ১৯৮৮ সাল থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেচাকেনা বা বল প্রয়োগের আশঙ্কা থাকায় ১৯৯৯ সালেই কিডনি প্রতিস্থাপন আইন করা হয়।

আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে কিডনি বেচাকেনার সুযোগ নেই। মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ১৯৯৯-এর ৯ ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বেচাকেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন ২০১৮ অনুযায়ী, ২২ ধরনের নিকটাত্মীয় কিডনি রোগীর জীবন রক্ষায় নিজের একটি কিডনি দিতে পারবেন।
হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপনের আগে নিকটাত্মীয়র বিষয়টি ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কিন্তু সেই আইনকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিডনি বেচাকেনার কাজটি চলে আসছে।
সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে আটটি প্রতিস্থাপন কেন্দ্রের চিকিৎসকরাও জেনে হোক আর না জেনে হোক, সেই সব কিডনি প্রতিস্থাপন করছেন। অনেকে কিডনিদাতা ও গ্রহীতাকে বিদেশে নিয়েও কিডনি প্রতিস্থাপন করিয়ে আসছেন।

 

সারা দুনিয়ায় কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য দুই ধরনের দাতা পাওয়া যায়। আগে থেকে দান করে যাওয়া ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ ব্যক্তির কিডনি এবং নিকটাত্মীয়র স্বেচ্ছায় দান করা একটি কিডনি। বাংলাদেশে প্রথমটির প্রচলন নেই বললেই চলে। দ্বিতীয়টিও খুবই সীমিত আকারে প্রচলিত আছে। তাই কিডনি প্রতিস্থাপন অপরিহার্য এমন অনেক রোগীর স্বজনরা অনেক সময়ই দালালদের খপ্পরে পড়ে যায়।

মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বেচাকেনার এই অমানবিক ও নিষ্ঠুরতম প্রক্রিয়া কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

কিডনি বিক্রি ঠেকাতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সব মহলকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা চাই, এসংক্রান্ত আইনের যথার্থ প্রয়োগ হোক। দালালদের অবৈধ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হোক।

সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন