English

29 C
Dhaka
শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪
- Advertisement -

দ্রুত কাজ সম্পন্ন করুন: রেলওয়ের প্রকল্পে শম্বুকগতি

- Advertisements -
অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় সারা দুনিয়ায় ট্রেনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অত্যাধুনিক ম্যাগলেভ ট্রেন বা বুলেট ট্রেনের প্রচলন বাড়ছে। বাংলাদেশেও রেলওয়েকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরনো রেলপথ চালু করার পাশাপাশি নতুন নতুন রেলপথ তৈরি করা হচ্ছে।
হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ প্রকল্প যে গতিতে বাস্তবায়িত হয়, তাকে শম্বুকগতি বললেও সম্ভবত ভুল বলা হবে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফরিদপুরের মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা পর্যন্ত রেলপথের নির্মাণকাজ চলছে তো চলছেই। কবে তা শেষ হবে বা আদৌ শেষ হবে কি না, কিছুই ঠিকভাবে বলা সম্ভব না।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মাগুরা জেলাকে বিদ্যমান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে মোট ২৩.১০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে মূল রেললাইন ১৯ কিলোমিটার ও লুপ লাইন ৪.১০ কিলোমিটার। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ২০২ কোটি ৪৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ২৯ মে।
কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল। সে সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ এই মেয়াদও শেষ হতে আর মাত্র মাসখানেক সময় আছে। জানা যায়, এ পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৫০.৩৯ শতাংশ। তাই কাজ শেষ করার মেয়াদ তৃতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

কে জানে, এরপর চতুর্থ দফা বা পঞ্চম দফায় সময় বাড়ানো হলে তা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে!

কোনো একটি প্রকল্প, বিশেষ করে রেলপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ আশায় বুক বাঁধতে শুরু করে। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ হওয়ায় মাগুরা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ আরো বেশি স্বপ্ন দেখছিল যে অনেক কম সময়ে তারা ট্রেনে ঢাকায় যেতে পারবে।

তাদের সেই আশা আজ হতাশায় রূপ নিচ্ছে। তাদের সে হতাশা প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতদের স্পর্শ করবে কি? কাজ না হওয়ার জন্য অনেক অজুহাত দেখানো যায়, কিন্তু সব সমস্যার সমাধান করে দ্রুতগতিতে কাজ সম্পাদন করার মধ্যেই তো প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতার প্রমাণ।

অতীতে রেলপথ নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। অনেক রেলপথ বন্ধ করা হয়েছে। লাইন তুলে ফেলা হয়েছে। গত দেড় দশকে অবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। রেল পরিবহনে অনেক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু মানসিকতার একটি অদৃশ্য বাধা সেই অগ্রগতিকে যেন পেছনে টানতে চাইছে। আমরা মনে করি, এই অদৃশ্য বাধা দূর করতে হবে। প্রতিটি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাতে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন