English

29 C
Dhaka
শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪
- Advertisement -

প্রকল্পের কাজে গতি আনুন: এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি

- Advertisements -
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়িত না হওয়া বাংলাদেশের জন্য যেন একটি স্বাভাবিক ঘটনা। প্রতিবছরই এ নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরে এবং বাইরেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। গতকাল প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাস্তবায়ন করা হয়েছে মাত্র ৪৯.২৬ শতাংশ। বাকি আছে আর মাত্র দুই মাস।
এই সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে ৫০.৭৪ শতাংশ। কয়েক বছর ধরে একই চিত্র দেখা গেলেও বাস্তবায়নের কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গতানুগতিকভাবেই চলছে এডিপি বাস্তবায়নের কাজ। এ জন্য বড় আকারের এডিপি নেওয়ার চেয়ে বাস্তবায়নের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ২০২৩-২৪ অর্থবছরের (জুলাই-এপ্রিল) প্রথম ১০ মাসের এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে শতাংশের হিসাবে বাস্তবায়নে কোন মন্ত্রণালয় প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে বা পিছিয়ে আছে।
বরাবরই লক্ষ করা গেছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে শ্লথগতি। এই শ্লথগতির পেছনের কারণ, প্রকল্প গ্রহণে অসতর্কতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা। এডিপি দ্রুত ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নের সংস্কৃতি জোরদার করার তাগিদ এর আগে বহুবার দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে চিত্র এখনো তথৈবচ।
আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অন্য রকম। স্বচ্ছতা-জবাবদিহি-দায়বদ্ধতার পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রত্যাশা এ সরকারের কাছে মানুষের বেশি হলেও তা হোঁচট খেয়েছে। এমন অভিযোগও আছে যে রাজনৈতিক সরকারগুলো বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প প্রণয়নের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রকল্প হাতে নিয়ে থাকে। আর এসব প্রকল্পের কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা রাজনৈতিক চাপও লক্ষ করা যায়। এ কারণেও প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ঝুলে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও বড় আকারের এডিপি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রথম আট বা ৯ মাস বাস্তবায়নের হার অনেক কম থাকে। কিন্তু শেষ দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ব্যাপকহারে বেড়ে যায়।
আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, কিন্তু ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। ফলে সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। এ ধরনের সমন্বয়হীনতার কারণেও এডিপি বাস্তবায়ন দুরূহ হয়ে পড়ে। বিষয়টি বৃহৎ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিধায় এর নিয়মিত তদারকি দরকার।
প্রশাসনে গতিশীলতা দরকার এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকল্প প্রণয়ন না করে বিদ্যমান বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। উচ্চাভিলাষ পরিহার করতে হবে। চিরাচরিত শ্লথগতি থেকে বেরিয়ে এসে যথাসময়ে বরাদ্দ অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে এডিপি বাস্তবায়নের একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অর্থবছরের ১০ মাসে যেখানে অর্ধেকও বাস্তবায়ন করা হয়নি, সেখানে মাত্র দুই মাসে কী করে বাকি অর্ধেক বাস্তবায়িত হবে। প্রতিবছরই শেষ সময়ে এসে তাড়াহুড়া করে বাস্তবায়নের হার বাড়ানো হয়।
এতে কাজের মান ঠিক থাকে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে জবাবদিহির আওতায় না আনলে শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন কোনো অর্থবছরেই সম্ভব হবে না।
সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন