English

25 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০২৪
- Advertisement -

বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে: সংকটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা

- Advertisements -
চিকিৎসকের ফি, রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ, ক্রমাগতভাবে দাম বাড়তে থাকা ওষুধ ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনা—সব মিলিয়ে চিকিৎসার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। ফলে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের পক্ষে অসুখবিসুখে চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।তদুপরি সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবা নিয়েও রয়েছে অনেক অভিযোগ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক ও সেবাদাতা লোকবলের অভাব, রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি অকেজো বা না থাকা, বিনা মূল্যের ওষুধ না পাওয়া—এমনই আরো অনেক অভিযোগ।
নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে অতি উচ্চ মূল্যের বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে যাওয়াও সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিনিয়ত অনেক দরিদ্র রোগী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়।
প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, দেশের ৪৬ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা খরচ মেটাতে কোনো না কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। গত রবিবার ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অধিকার প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজের অবস্থানপত্র’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত একটি মতামত জরিপের ফলাফলে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, গ্লোবাল কল টু অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট পোভার্টি ও নোয়াখালী রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এনআরডিএস)।
প্রতিনিয়ত বাড়ছে ওষুধের দাম। বাড়ছে অন্যান্য খরচও। ফলে ব্যক্তির চিকিৎসা খরচ ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
এর আগেও অনেক গবেষণায় উঠে এসেছে, উচ্চ ব্যয়ের কারণে বহু মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছে না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপে প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ গ্যাস্ট্রিক, রক্তচাপ, বাতজ্বর, হাঁপানি ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগলেও তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি কোনো ধরনের চিকিৎসাই নেয় না।
ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফেডারেশনের ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৩০ লাখের মতো। এর মধ্যে মাত্র ৫৯ লাখ রোগী চিকিৎসা নেয়। বাকি ৭১ লাখ রোগীই রয়ে যায় চিকিৎসার বাইরে।
চিকিৎসার বাইরে থাকা রোগীরা ডায়াবেটিস ছাড়াও দ্রুত অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়। তখন তাদের চিকিৎসার ব্যয় আরো বৃদ্ধি পায়, যা বহন করা তাদের পক্ষে আরো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
প্রকাশিত আরেকটি খবরে বলা হয়, ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের হালিমাবাদ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাত বছর ধরে কোনো চিকিৎসক নেই। তাহলে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলটির মানুষ চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবে? প্রায় একই রকম অবস্থা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের।
স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটে এ খাতের বরাদ্দ অত্যন্ত কম। তদুপরি আছে দুর্নীতি ও অনিয়ম। আমরা মনে করি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে।
সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন