English

33 C
Dhaka
রবিবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৪
- Advertisement -

বেগবান হোক গণতন্ত্রচর্চা: জাতীয় সংসদের সুবর্ণ জয়ন্তী

- Advertisements -
জাতীয় সংসদের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশন ছিল গত শুক্রবার। এই অধিবেশনে স্মারক বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, গণতন্ত্র আমদানি বা রপ্তানিযোগ্য কোনো পণ্য বা সেবা নয়। চর্চার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র বিকশিত ও শক্তিশালী হয়। জনগণের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কোনো গোষ্ঠী বা অসাংবিধানিক শক্তির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।বলেছেন, আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসের রাজনীতি দেশ ও অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। ক্ষমতায় যাওয়া বা পরিবর্তন আনার একমাত্র উপায় নির্বাচন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এই সময়ে সংঘাত ভুলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে এসে গণতন্ত্রকে বিকশিত হতে সবারই সহায়তা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রচর্চার ইতিহাস আগামী দিনে আরো সমৃদ্ধ ও বেগবান হবে, এমনটিই প্রত্যাশা করেছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির স্মারক বক্তব্যের পর সাধারণ প্রস্তাব উত্থাপন করতে গিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জাতীয় সংসদ অনন্য ভূমিকা পালন করছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় সংসদ অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র অগ্রায়নে ভূমিকা রেখে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির স্মারক বক্তব্য থেকে যে প্রশ্নটি সামনে চলে আসে, তা হলো বাংলাদেশের রাজনীতি কি আজ এক দুঃসময় পার করছে? রাজনৈতিক অঙ্গনের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে, রাজনীতিতে অর্থ আর পেশিশক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব বাড়ছে।আদর্শ, জনকল্যাণ, আত্মত্যাগ ও নৈতিকতা ক্রমেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। রাজনীতি হয়ে উঠছে বিত্তবৈভব অর্জনের হাতিয়ার। সমষ্টির কল্যাণের চেয়ে ব্যক্তির উদরপূর্তিই আজ রাজনৈতিক ধারা হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে এসব কথা স্পষ্ট করেই উল্লেখ করেছেন।

আমরা জানি, আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, সুশাসন ও দেশের উন্নয়ন হাত ধরাধরি করে চলে। আদর্শচ্যুত রাজনীতিও সমাজ বা রাষ্ট্রকে কিছু দেয় না। নেতৃত্ব অযোগ্য, অদক্ষ হলে সৃষ্টি হয় নৈরাজ্য। কিন্তু এটা তো দৃশ্যমান যে সময় যত গড়াচ্ছে ততই যেন রাজনীতি আদর্শ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

প্রধান দলগুলোতে সুযোগসন্ধানীরা ঢুকে পড়ছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনীতির গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের উন্নতি বা অবনতি। রাজনীতি পচনশীল হলে রাষ্ট্র উন্নয়নের বদলে উল্টোপথে হাঁটে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে প্রয়োজন আদর্শ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। আমাদের সামনে উদাহরণ আছে। তাঁদের অনুকরণ করতে হবে। যোগ্য ও শিক্ষিত মুখকে রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে হবে। অসুস্থ রাজনীতি থেকে মুক্তি না ঘটলে সবাইকে সামনে আরো বড় মূল্য দিতে হবে।

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যেসব অসুস্থ ধারার অনুপ্রবেশ ঘটে গেছে, তা থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করতে হবে। অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে। জনগণের প্রত্যাশার মূল্য দিয়ে দেশে সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাতীয় নেতৃত্ব আরো বিচক্ষণতার পরিচয় দেবেন আশা করি।জাতীয় সংসদের সুবর্ণ জয়ন্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাংলাদেশের গণতন্ত্রচর্চায় যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন