English

30 C
Dhaka
সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০২৪
- Advertisement -

রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে: কুলাউড়ায় খাল খনন

- Advertisements -
সারা দেশেই নদী-খালের অবস্থা শোচনীয়। বেশির ভাগ নদী-খাল ভরাট হয়ে গেছে। অনেক নদীর চিহ্নও মুছে গেছে। অনেক নদী কোনো রকমে মরতে মরতে বেঁচে আছে।
বছরে দু-তিন মাসের বেশি পানি থাকে না। মানুষও সেই সুযোগে নদী-খাল দখল করে স্থাপনা তৈরি করছে। এর প্রধান কারণ দীর্ঘকালীন অবহেলা। এক দশক ধরে নদী-খাল সংস্কারে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে।
তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ৫০ বছর পর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মরা গুগালী খালটি খনন করা হয়েছে। উভয় তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে রাস্তা। ফলে শহরের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মরা গুগালী খালটি কুলাউড়া পৌর শহরের পূর্ব দিকের রেলওয়ে এলাকা থেকে শুরু হয়ে শহরের উছলাপাড়া-মাগুরা ও বাদে মনসুর এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাকালুকি হাওরে গিয়ে মিশেছে।
কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় শহর থেকে বৃষ্টির পানি নামতে পারত না। ফলে লক্ষাধিক জনসংখ্যার কুলাউড়া শহরে দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা লেগে থাকত। পৌরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক ক্ষয়ক্ষতিও হতো।
খালটি খনন করায় পৌর শহরের বাসিন্দারা আশা করছে, তাদের দুর্ভোগের দিনগুলোর এবার অবসান হবে।সেই সঙ্গে দুই পাশে গাছগাছালিসহ দৃষ্টিনন্দন রাস্তা হওয়ায় শহরের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি সকাল-বিকেলে ভ্রমণসহ খালের পাশে বসে অবসর সময় কাটানো যাবে।
ধারণা করা হচ্ছে, নতুন রাস্তা হওয়ায় শহরের আবাসনসংকটও অনেকটা কেটে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদী-খাল শুধু খনন করলেই হবে না, এগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। মানুষের হস্তক্ষেপের পাশাপাশি প্রাকৃতিক কারণেও নদী-খাল ভরাট হয়ে যায়। বৃষ্টি-বাদলে ভূমিক্ষয় তার একটি বড় কারণ।
পানিবাহিত হয়ে সেই মাটি গিয়ে খালে জমা হয় এবং খাল ভরাট হয়ে যায়। সেই সঙ্গে নগরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদী-খালগুলো দ্রুত ভরাট হয় গৃহস্থালি ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে।
কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্যও নদী-খালে ফেলা হয়। অনেক সময় খালে বাঁধ দিয়ে, বানা দিয়ে মাছ ধরা হয়। তাতে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং পলি জমার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। তাই খনন করা খালের নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর খনন করাও জরুরি।
আমরা আশা করি, কুলাউড়ার মরা গুগালী খালের মতোই সারা দেশের, বিশেষ করে নগরগুলোতে থাকা নদী-খাল দখলমুক্ত করে নাব্য করার এই কর্মসূচি আরো জোরদার করা হবে।
পাশাপাশি নগরের বাসিন্দাদেরও সচেতন হতে হবে। কেউ যাতে কোনো ধরনের বর্জ্য খালে ফেলতে না পারে সে ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসনকেও উদ্যোগী হতে হবে।
সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন