English

29 C
Dhaka
শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪
- Advertisement -

সবুজের পরিমাণ বাড়াতে হবে: বাড়ছে ঢাকার তাপমাত্রা

- Advertisements -
সম্প্রতি বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘতম তাপপ্রবাহ মোকাবেলা করেছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। হিট স্ট্রোকে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী ঢাকাও এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছিল।
বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, নিকট ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহজনিত সমস্যা আরো বাড়বে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০৩০ সাল নাগাদ ঢাকা থাকবে বিশ্বের সর্বাধিক তাপপ্রবাহকবলিত শহরগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে। এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের এক গবেষণা প্রতিবেদনে।
এই তালিকায় এক নম্বরে থাকবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই।
তারপর ক্রমান্বয়ে থাকবে মিসরের কায়রো, ভারতের নয়াদিল্লি, থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্কক ও ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা পৃথিবীতেই তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। পাশাপাশি স্থানীয় কারণেও অঞ্চলবিশেষে তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। ঢাকা মহানগরী নিয়ে এর আগে পরিচালিত দুটি গবেষণায় এমন কিছু কারণ উঠে এসেছে।
একটি গবেষণায় ঢাকার ২৫টি এলাকাকে চরম উষ্ণ এলাকা বা ‘হিট আইল্যান্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অপর গবেষণায় বলা হয়, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সবুজ এলাকা বা গাছপালা ও জলাশয় কমে যাওয়াকেও স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তা ছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার প্রণালী তাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। রান্না, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যানবাহন ও অন্যান্য উৎস থেকে ক্রমেই বেশি করে তাপ যুক্ত হচ্ছে পরিবেশে। সেই সঙ্গে অবাধে চলছে বৃক্ষ নিধন, প্রতিনিয়ত কমছে সবুজ আচ্ছাদন; অন্যদিকে বাড়ছে কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা।
ফলে পরিবেশ শীতল হওয়ার সুযোগই থাকছে না। এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বব্যাপী বসবাসযোগ্য নগরের যেসব তালিকা পাওয়া যায়, সেগুলোতে ঢাকার অবস্থান একেবারে তলানিতে। উল্টোভাবে বললে বলা যায়, বসবাস অযোগ্য বা নিকৃষ্টতম শহরগুলোর একটি হচ্ছে আমাদের এই রাজধানী শহর। এ থেকে ঢাকার উত্তরণ ঘটাতে তথা ঢাকার প্রায় সোয়া দুই কোটি মানুষকে রক্ষায় পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। নগর পরিকল্পনাবিদ, উদ্যানবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে রাজধানীর পরিবেশগত উন্নয়নে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
ঢাকার যেখানে যতটুকু জায়গা পাওয়া যায়, পরিকল্পিতভাবে ছোট-বড় নানা জাতের বৃক্ষ রোপণ করতে হবে এবং সেগুলো রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। খাল, নদী, পুকুর ও জলাশয়গুলো রক্ষা করতে হবে। নদীর তীর বরাবর ওয়াকওয়ে ও সবুজের আচ্ছাদন তৈরি করতে হবে। ফুটপাত ও সড়কদ্বীপগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বাড়ির আঙিনা ও ছাদে বাগান করাকে উৎসাহিত করতে হবে। দুই সিটি করপোরেশনকে এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন