স্থায়ী প্রতিকারের উদ্যোগ নিন: নদীভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

- Advertisements -
পলিমাটির বাংলাদেশে নদীভাঙন সব সময়ই ছিল। কিন্তু অব্যাহতভাবে পলি জমে নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কিংবা নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় বর্ষার পানি দুই তীরে বেশি আঘাত করে এবং ভাঙন তীব্র হয়। ফলে নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার সর্বস্বান্ত হয়। হাজার হাজার কোটি টাকার ফসল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিশেষ করে পদ্মা ও যমুনা অববাহিকায় ভাঙন সবচেয়ে তীব্র হয়। সরকার ভাঙন রোধে স্থায়ী ও অস্থায়ী নানা রকম উদ্যোগ নিলেও তার সুফল পাওয়া নিয়ে জনমনে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। তারা চায় কার্যকর ও স্থায়ী তীর রক্ষা ব্যবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী এলাকার উদ্বিগ্ন নদীতীরবাসীদের আশ্বস্ত করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

তিনি তাদের জানান, ভাঙন ঠেকাতে আগে যেমনটা ছিল, বর্তমানে তার দ্বিগুণ শক্তিশালী করে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

Advertisements

পদ্মার ভাঙনে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ থেকে শরীয়তপুর অংশ সবচেয়ে নাজুক। মূল পদ্মার পাশাপাশি এর শাখা নদীগুলোও বর্ষায় ভয়ংকর হয়ে ওঠে। প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বহু স্থাপনা হারিয়ে যায় নদীগর্ভে। প্রায় একই অবস্থা যমুনা অববাহিকায় থাকা জনপদগুলোরও। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ উত্তরাঞ্চলের অন্য নদীগুলোও প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কারণ হচ্ছে। 
প্রকাশিত অপর এক খবরে জানা যায়, যমুনায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক দিন ধরে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া চরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শত শত বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও নানা স্থাপনা।
হুমকির মুখে রয়েছে পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত মুজিব কিল্লা।
জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলেও এ দেশে নদীগুলো নিয়মিত খননের মাধ্যমে নাব্য রাখা হতো। এ জন্য তাদের বিশাল ড্রেজারবহর ছিল। কিন্তু পাকিস্তান আমলে এই দেশ ড্রেজারশূন্য হয়ে পড়ে এবং নদী খনন বন্ধ হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সরকার চারটি ড্রেজার ক্রয় করেছিল।
এরপর দীর্ঘদিন আর কোনো ড্রেজার কেনা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কয়েক ডজন ড্রেজার কেনা হয়েছে। সেগুলো দিয়ে সীমিত পরিসরে নদী খননের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রয়োজন অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদীভাঙন রোধ এবং নদীগুলোকে নাব্য রাখার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। নদীগুলোর গভীরতা বাড়াতে হবে। তীর রক্ষা বাঁধ আরো মজবুত ও স্থায়ী করে গড়ে তুলতে হবে।

Advertisements
The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/hhnv
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন