English

33 C
Dhaka
মঙ্গলবার, মে ২৪, ২০২২
- Advertisement -

পরিবেশ হুমকিতে পড়বে: অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

- Advertisements -
Advertisements
Advertisements

নদীর তলদেশে পলি জমে গেলে অনেক সময় বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু তোলা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার নদী ঘিরে বালুমহালও রয়েছে। এসব বালুমহালে বালু তোলার একটি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে।

শর্ত মেনেই বালু তোলার অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু অনেক বালুমহালের ইজারাদার অনুমোদন নিলেও শর্ত মানে না। অনুমোদিত এলাকার বাইরে বা অনুমোদিত এলাকা থেকে নির্ধারিত পরিমাণের বেশি বালু উত্তোলন করে। ফলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বালু উত্তোলনের স্থান, আয়তন, সময়, অন্যান্য খনি, সংশ্লিষ্ট এলাকার জীববৈচিত্র্য ও উত্তোলনের প্রাযুক্তিক ব্যবস্থার দিকে খেয়াল রাখা উচিত। বালুমহাল আইন ২০১০ অনুযায়ী উন্মুক্ত স্থান, চা বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ, সেতু, কালভার্ট, ব্যারাজ, বাঁধ এবং সড়ক-মহাসড়ক, বন ও রেললাইন বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু এ আইন মানা হয় কদাচিৎ।
আবার অবৈধ বালুমহালও রয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রায়ই খবর প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর ৩০ পয়েন্টে শক্তিশালী ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। ড্রেজার ও শ্যালো মেশিনের সঙ্গে বড় বড় পাইপ সংযুক্ত করে অনেক দূর পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে এই বালু। কোথাও কোথাও ফসলি জমির ওপরই স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে আগামী বর্ষায় ভয়াবহ ভূমিধসের আশঙ্কা ছাড়াও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে নদীর ওপর নির্মিত পালাকাটা ও বাঘগুজারা নামের দুটি রাবার ড্যাম। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে চললেও তা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তত্পরতা নেই বলে খবরে প্রকাশ।

শুধু চকরিয়া নয়, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা সদরেও ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করছেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। যেখান থেকে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, তার ৫০০ গজের মধ্যেই আছে চিতলমারী সরকারি বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ, প্রধান বাজার, প্রধান সড়কসহ একাধিক সড়ক ও আবাসিক এলাকা।

কোনো পরিকল্পনা ছাড়া বালু উত্তোলন যে ক্ষতিকর সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এই ক্ষতির পরিমাণ কী হতে পারে আমরা অনেকেই তা জানি না। প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর এর প্রভাব কী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পরিকল্পনা ছাড়া যত্রতত্র বালু উত্তোলন করা হলে নদীভাঙন ত্বরান্বিত হতে পারে। এতে বহু মানুষের বাস্তুভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অথচ বাংলাদেশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজটিই বেশি হয়। এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন