English

33 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, জুলাই ৭, ২০২২
- Advertisement -

তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করুন: হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

- Advertisements -
Advertisements
Advertisements

তামাক বা তামাকজাত পণ্যের ক্ষতি বা স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি আজ অত্যন্ত স্পষ্ট। সারা পৃথিবী তামাকের উৎপাদন ও ব্যবহার কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। অনেক দেশেই তামাকের উৎপাদন ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে, কিন্তু বাংলাদেশে ঘটছে উল্টোটা। তামাক ও তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে।

এর ফলে ক্যান্সারসহ তামাকজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি জমির উর্বরতা, ফসল উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আগে অন্যান্য ফসল করা হতো, এমন জমিও ক্রমে বেশি করে তামাক চাষের আওতায় চলে যাচ্ছে। কক্সবাজার ও বান্দরবানের কোনো কোনো এলাকায় ৮০ শতাংশের বেশি জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। শুধু ব্যক্তিগত জমিতেই নয়, খাসজমি, পাহাড়-টিলা দখল করেও চলছে তামাক চাষ। অন্যদিকে তামাক পাতা শোধনের জন্য স্থাপিত চুল্লিগুলোয় দেদার কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। পাহাড় বা সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করে এসব কাঠ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে তামাক চাষ আগেও হতো, কিন্তু ষাটের দশক থেকে বিভিন্ন টোব্যাকো কম্পানির আগ্রাসী নীতির কারণে তামাক চাষ দ্রুত বাড়তে থাকে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সায়েন্টিফিক রিসার্চের (আইওএসআর) জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, টক্সিকোলজি অ্যান্ড ফুড টেকনোলজিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০-১১ সালে বাংলাদেশে ১২ কোটি একরের বেশি কৃষিজমিতে তামাক চাষ হয়েছে। এর এক দশক আগেও তামাক চাষ হতো সাত কোটি ৬০ লাখ একর জমিতে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিক হেলথ (আইজেইআরপিএইচ) অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ১২তম বৃহৎ তামাক উৎপাদনকারী দেশ। প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, আগে উত্তরাঞ্চলে তামাক চাষের ব্যাপকতা থাকলেও কয়েক দশক ধরে কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোয় ব্যাপক হারে তামাক চাষ হচ্ছে। ক্রমেই বাড়ছে তামাক চাষের আওতায় আসা জমির পরিমাণ। উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণার (উবিনীগ) তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার ও বান্দরবানে চলতি বছরে কম করে হলেও ১০ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিবছর কক্সবাজার ও বান্দরবানের প্রায় ১০ হাজার চুল্লিতে তামাক পাতা শোধন করা হয়। প্রতিটি চুল্লিতে অন্তত সাড়ে তিন লাখ কেজি কাঠ পোড়ানো হয়। আর এর প্রায় পুরোটাই আসে আশপাশে থাকা সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলো থেকে। আবার তামাক চাষ জমিরও ক্ষতি করছে। ফলে ক্রমেই বেশি করে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। শুধু জমির ক্ষতি নয়, ২০১৬ সালে প্রাকৃতিক প্রজননকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হালদা নদীতে কোনো ডিম দেয়নি মা মাছ। কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, উজানে তামাক চাষে ব্যবহৃত জমির সার ও কীটনাশক বৃষ্টিতে ধুয়ে নদীতে এসে পড়ায় এমন অবস্থা হয়েছিল। আশপাশের অন্যান্য নদী বা জলাভূমির পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। প্রয়োজনে কৃষকদের অগ্রিম অর্থ প্রদানসহ নানা উপায়ে তামাক চাষিদের প্রলুব্ধ করার যে আগ্রাসী নীতি টোব্যাকো কম্পানিগুলো অনুসরণ করে তারও লাগাম টানতে হবে।

Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন