English

28 C
Dhaka
শনিবার, মে ২৮, ২০২২
- Advertisement -

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার: ভুয়া চিকিৎসক

- Advertisements -
Advertisements
Advertisements

শুধু প্রতারণা নয়, এ এক ভয়াবহ অপরাধ। ভুয়া চিকিৎসক তৈরি ও রোগীদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়ংকর কারবার করছিল একটি চক্র। শতাধিক ব্যক্তিকে ডাক্তার হওয়ার ভুয়া সনদ দিয়েছেন একজন নুরুল গণি সরকার। ভুয়া চিকিৎসকদের বেশির ভাগ ঢাকার উপকণ্ঠ সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় চেম্বার খুলে প্রতারণা করতেন।

মূলত গার্মেন্টকর্মী, কারখানার শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে লক্ষ্য করেই এই চক্র কারবার চালাত। ওই সব নিম্ন আয়ের মানুষ কম ফিতে কাছের হাসপাতালে ডাক্তার দেখায়। তাদের অপচিকিৎসা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন এসব ভুয়া ডাক্তার। সম্প্রতি ডিবি পুলিশ চারজন ভুয়া ডাক্তার ও তাঁদের সনদ দেওয়া প্রতারক নুরুল গণি সরকারকে গ্রেপ্তার করে অনেক তথ্য পেয়েছে।
গ্রাম পর্যায়ে শুধু নয়, বাংলাদেশে শহরাঞ্চলেও চিকিৎসাসেবা শতভাগ নিশ্চিত করা যায়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য মানুষ এখনো শহরমুখী। চিকিৎসকদেরও গ্রামে থাকার ব্যাপারে অনীহা। এরই সুযোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে হাসপাতাল ও ক্লিনিক। যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার, তা এখন একটি বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবেই গণ্য হচ্ছে; বিশেষ করে শহর এলাকায় যে হারে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠছে, তাতে সেবার চেয়ে ব্যাণিজ্যিক দিকটাই প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। আবার দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মান আশাব্যঞ্জক নয়।
অনেক ক্ষেত্রে সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় বেডের অপ্রতুলতাও রয়েছে। একটি অশুভ চক্র এই সুযোগ নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ক্লিনিক গড়ে ওঠার পাশাপাশি ভুয়া চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসক নামধারী এসব প্রতারক কোনো সনদ ছাড়াই এত দিন চিকিৎসার নামে সরলমনা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। এসব ভুয়া চিকিৎসক ধরা পড়ায় অনেক রোগীর জীবন রক্ষা পেয়েছে।
ভুয়া চিকিৎসক শুধু নয়, বাংলাদেশে নকল ও ভেজাল ওষুধ কী পরিমাণে তৈরি হয়, তার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য সম্ভবত নেই। নানা ধরনের সিরাপ, ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল নকল হচ্ছে। এর পাশাপাশি আছে নিম্নমানের ওষুধ তৈরির কারবার। অনেক ট্যাবলেট, ক্যাপসুল পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলোর ভেতরে সাধারণ আটা-ময়দা ছাড়া কিছুই নেই। সিরাপের মধ্যে আছে শুধু রং। সরল বিশ্বাসে ওষুধ কিনে প্রতারিত হয় ক্রেতা।

এমন সনদবিহীন ভুয়া চিকিৎসক আছেন সারা দেশেই। শুধু ভুয়া ডাক্তার চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া নয়, পাশাপাশি অবৈধ ক্লিনিক উচ্ছেদ করতে হবে। অন্যদিকে দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় যাতে সাধারণ মানুষ আস্থাশীল হতে পারে, সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। সবার আগে প্রতারক চিকিৎসকদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন