English

29 C
Dhaka
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০২২
- Advertisement -

কৃষকদের মহতী উদ্যোগ: স্বেচ্ছাশ্রমে হাওরের বাঁধ রক্ষা

- Advertisements -
Advertisements
Advertisements

মানুষ মানুষের জন্য—কথাটির সত্যতা আবারও প্রমাণ করেছেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ২০ জন কৃষক। গত ২ এপ্রিল উপজেলার খাই হাওরের পাশের রাঙ্গামাটি বাঁধটি উজানের ঢলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। হাওরটির তিন হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে থাকা বোরো ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ অবস্থায় আশপাশের ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষক বাঁধ রক্ষায় এগিয়ে আসেন। তাঁরা বাঁশ, মাটি ও জিও ব্যাগ নিয়ে দিনরাত বাঁধ পাহারা দিতে থাকেন। কোথাও ফাটল বা ভাঙন দেখা দিলেই তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন। কখনো গ্রামের মানুষ, কখনো পরিবার থেকে তাঁদের খাবার দেওয়া হয়। বাঁধে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে সেখানেই তাঁরা থাকেন। ধান এখন কাটা হচ্ছে।

পাহারায় থাকা লোকজনও কমেছে। কিন্তু ২০ জন কৃষক এখনো সেখানেই রয়ে গেছেন। ঘুম, নাওয়া-খাওয়ার ঠিক নেই, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তাঁরা তিন সপ্তাহ ধরে বাঁধ পাহারা দিয়ে চলেছেন। সব ধান না কাটা পর্যন্ত তাঁরা সেখানে থেকেই বাঁধ রক্ষায় সংগ্রাম করে যাবেন। সেই হাওরে তাঁদের জমি হয়তো খুবই সামান্য। কিন্তু কয়েক হাজার কৃষকের বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান রক্ষায় তাঁরা যে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, তার কোনো তুলনা হয় না।

দেশের খাদ্য চাহিদার প্রধান জোগান আসে বোরো ধান থেকে। সেই বোরো ধানের এক-চতুর্থাংশই উৎপন্ন হয় সাতটি জেলাজুড়ে থাকা এসব হাওরে। হাওরের একমাত্র ফসলও এই বোরো ধান। কোনো কোনো বছর আগাম বন্যায় এই ধান নষ্ট হয়ে যায়। তখন হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকে না। এ বছরও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁধ ভেঙে বেশ কিছু হাওর ডুবে গেছে। ভেসে গেছে কয়েক হাজার একর জমির বোরো ধান। সেসব কৃষকের চোখের পানি আর বানের পানি একাকার হয়ে গেছে। বাঁধ রক্ষার এমন উদ্যোগ হাওরাঞ্চলের আরো অনেক স্থানেই দেখা গেছে। প্রশাসন থেকে কিছু সহযোগিতা দেওয়া হলেও এলাকার কৃষকরা মূলত স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেই রক্ষা করে যাচ্ছেন বাঁধের ভাঙন। রক্ষা পাচ্ছে হাজার হাজার কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন। কিন্তু এভাবে কি বিস্তৃত হাওরাঞ্চলের ফসল রক্ষা করা সম্ভব? কৃষকদের অভিযোগ, বাঁধ মেরামতে অনিয়ম-দুর্নীতি হয় এবং বর্ষার আগে আগে নামমাত্র মেরামত করে অর্থ লুটপাট করা হয়। ফলে বাঁধ দুর্বল থাকে এবং ঢলের পানির ধাক্কা লাগলেই ভেঙে যায়।

বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনেক দিনের। জরুরি ভিত্তিতে এসবের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু বাঁধ মেরামত করেই হাওরাঞ্চল রক্ষা করা যাবে না। এ জন্য আশু ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। হাওরাঞ্চলে থাকা নদীগুলোর গভীরতা কমে যাওয়ায় উজানের পানি নদী দিয়ে নামতে না পেরে দুকূল ভাসিয়ে দিচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব নদীগুলো খননের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বাঁধগুলো সঠিকভাবে মেরামত করতে হবে। একই সঙ্গে আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন