English

33 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০২২
- Advertisement -

হারিয়ে যাচ্ছে ঢাকার মাঠ: রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হোক

- Advertisements -
Advertisements
Advertisements

নগরজীবনে মোটামুটি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য খোলা জায়গা ও গাছপালা থাকা প্রয়োজন। শিশুদের শারীরিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ প্রয়োজন। ঢাকায় একসময় অনেক মাঠ ছিল। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের অদূরদর্শিতা ও পরিকল্পনার অভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক খোলা জায়গা, খেলার মাঠ হারিয়ে গেছে।

বাকিগুলোও হারিয়ে যেতে বসেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ২০ বছরে ঢাকার শতাধিক মাঠ হারিয়ে গেছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে যাদের এসব মাঠ রক্ষা করার কথা তারাই দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে বেশি।
ঢাকা মহানগরের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপের মানদণ্ড অনুযায়ী, পাড়া-মহল্লায় প্রতি সাড়ে ১২ হাজার মানুষের জন্য দুই থেকে তিনটি খেলার মাঠ থাকা প্রয়োজন। আয়তন হওয়া উচিত তিন একরের মতো। ঘনবসতিপূর্ণ কলাবাগান এলাকায় আনুমানিক ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। এই হিসাবে সেখানে কমপক্ষে ছয়টি মাঠ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু নেই। তেঁতুলতলা মাঠ নামে এক বিঘার একটি মাঠ ছিল। সেটিরও ২০ শতাংশ বরাদ্দ নিয়ে তৈরি হচ্ছে কলাবাগান থানা ভবন। বাকি যে ১৩ শতাংশ থাকবে সেটি হয় তারাই ব্যবহার করবে, না হয় ভাগাড় হবে। জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থানার জন্য বিকল্প জায়গা খোঁজার কথা বললেও পুলিশ পাহারায় নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) ২০১৯ সালে ঢাকার মাঠ নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করেছিল। সেই জরিপেও উঠে এসেছে, প্রতিনিয়ত কমছে ঢাকার মাঠ। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ঢাকায় মাঠ আছে ২৩৫টি। তার মধ্যে ১৪১টিই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। এগুলোও আয়তনে ক্রমেই কমছে। ভবন তৈরি হচ্ছে।
অনেক মাঠেই খেলাধুলা করার মতো অবস্থা নেই। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাইরের শিশু-কিশোরদের খেলার সুযোগও কম। পুরান ঢাকায় বেশ বড়সড় মাঠ ছিল ধূপখোলা। এখানে ক্রিকেট-ফুটবল এক সঙ্গেই খেলা যেত। সেখানে গত বছর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মার্কেট তৈরির কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার ঢাকার মাঠ রক্ষার তাগিদ দিয়েছেন। বছর পাঁচেক আগে আজিমপুরে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সেখানকার মাঠগুলো রক্ষা করার কথা বলেছিলেন। এর পরও হারিয়ে গেছে সেখানকার কলোনিতে থাকা তিন-চারটি মাঠ।

এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। পুনরুদ্ধার ও সংস্কার করে সাতটি পার্ক ও মাঠ খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি সেই আশার গুড়ে বালি। আমরা চাই, ঢাকার মাঠগুলো রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক।

Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন