বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, প্রথম ভাষা হিসেবে এর গুরুত্ব অটুট। তবে এর পাশাপাশি দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে কোন ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেটিও এখন গুরুত্ব দিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এমপি।
রাজধানী ঢাকায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এমপি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা করা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ইংরেজির চেয়ে অন্য ভাষার প্রয়োজন রয়েছে। মাদরাসাগুলোতে আরবিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেখানে ইংরেজি বা বাংলাকে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত হয়নি। যা আছে তাই চলছে।
ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা ইংরেজি, উর্দু বা আরবিতে স্বপ্ন দেখি না, স্বপ্ন দেখি বাংলা ভাষায়। চিন্তা, জ্ঞান বিতরণ, অনুভব সবকিছুর শুরু মাতৃভাষা দিয়ে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিদেশে ইংরেজিতে কথা বললেও মনের ভেতর অনেকে বাংলাতেই ভাবেন।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মাতৃভাষা রয়েছে। সেগুলোর সংরক্ষণ জরুরি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দায়িত্ব আমাদের ওপরই বর্তেছে ভাষা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরি করার। বাংলাদেশে প্রায় ৬৫টির বেশি ভাষা রয়েছে, সেগুলোকেও সংরক্ষণ করতে হবে।
বাংলা ভাষার বর্তমান চর্চা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, টেলিভিশন ও বিভিন্ন আলোচনায় বাংলা বিকৃত হচ্ছে। বানান ও ব্যাকরণের চর্চা কমে যাচ্ছে। ভাষা আধুনিক হবে, কিন্তু বিকৃত হওয়া উচিত নয়।
পাঠ্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলিয়ে ২০০ নম্বর, ইংরেজিতেও ২০০ নম্বর। এটি শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ হয়ে যাচ্ছে কি না, তা ভাবার বিষয়। কোন বিষয়ে কোন ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেটিও নির্ধারণ করা দরকার।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায় যদি বাংলায় হতো, সাধারণ মানুষ আরও ভালো বুঝতে পারত। তবে ইংরেজি থেকে বাংলায় রায় রূপান্তর নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে। সেগুলো সমাধান করতে হবে।
১৯৫২ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষার মাধ্যমেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। তাই সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করতে ভাষার মর্যাদা রক্ষা জরুরি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
