নাসিম রুমি: গত এক দশক ধরে যাঁর কণ্ঠ ছাড়া বলিউড বা টলিউডের একটা সিনেমাও কল্পনা করা যেত না, সেই সুরের জাদুকর অরিজিৎ সিং এবার থামার সিদ্ধান্ত নিলেন। মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর সন্ধ্যায় এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় অরিজিৎ জানিয়ে দিলেন, প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে তাঁর সফর আপাতত ইতি।
কী লিখলেন অরিজিৎ? নিজের অফিসিয়্যাল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অরিজিৎ তাঁর অনুরাগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেখেন, ‘সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। গত কয়েক বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি আজ জানাচ্ছি যে, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি আর কোনো নতুন কাজ গ্রহণ করব না। আমি এখানেই শেষ করছি এটা ছিল এক অসাধারণ সফর।’
তবে কি একেবারেই গান ছেড়ে দিচ্ছেন অরিজিৎ? উত্তরে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গান গাওয়া বা সঙ্গীত তৈরি তিনি থামাবেন না। তবে বাণিজ্যিক ছবির প্লেব্যাক থেকে তিনি বিদায় নিলেন।
অরিজিতের এই ঘোষণায় মুহূর্তের মধ্যে সমাজমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। ভক্তদের অনেকেই তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ‘বিরাট কোহলির টেস্ট অবসর’-এর মতো বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। সোশ্য়াল মিডিয়ায় ইতিমধ্য়েই হা-পিত্য়েশ শুরু করেছে ভক্তরা। খুব শিগগির পরিচালনায় হাত পাকাতে চলেছেন অরিজিৎ। তার আগে সিনেমার গান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় স্তম্ভিত সকলে।
শোনা যাচ্ছে, অরিজিৎ এখন নিজের স্বাধীন মিউজিক লেবেল ‘ওরিয়ন মিউজিক’ এবং নিজস্ব সৃষ্টিতেই বেশি সময় দিতে চান। ১৫ বছরের কেরিয়ারে দু’টি জাতীয় পুরস্কার এবং অগণিত হিট গান দেওয়ার পর, তাঁর এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় সঙ্গীত জগতে এক যুগের অবসান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’ রিয়্যালিটি শো-তে অরিজিৎ যখন প্রথম বার জনসমক্ষে আসেন, তখন কেউ ভাবেনি এই লাজুক ছেলেটিই একদিন ভারতের সঙ্গীত জগত শাসন করবে। যদিও সেই শো-তে তিনি ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেন, কিন্তু তাঁর প্রতিভা পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি ও সঙ্গীত পরিচালক প্রীতমের নজর কেড়েছিল। দীর্ঘদিন মুম্বইয়ে স্ট্রাগল করেছেন জিয়াগঞ্জের সোমু (অরিজিৎ-এর ডাকনাম)।
২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ ছবির ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে তাঁর প্লে-ব্যাক সফর শুরু হলেও, ২০১৩ সাল ছিল তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। ‘আশিকি ২’ ছবির ‘তুম হি হো’ গানটি রাতারাতি তাঁকে গ্লোবাল সুপারস্টার বানিয়ে দেয়। এই একটি গান প্লে-ব্যাক সঙ্গীতের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল।
