একটা সময় দেশের বড় কোনো উৎসব মানেই টেলিভিশনের পর্দায় চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত নাটকের উপস্থিতি। দর্শকের কাছে তিনি ছিলেন ঈদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সময় বদলেছে, বদলেছে মাধ্যমও। এখন টিভি নাটকে তার উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বেড়েছে ব্যস্ততা। তার চেয়েও বেশি সক্রিয় তিনি বড়পর্দায়। আসছে ঈদুল ফিতরে চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত তিনটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়; যা নিঃসন্দেহে তাঁর ভক্তদের জন্য বিশেষ চমক।
এর একটি রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’, অন্যটি তানিম নূর নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। দুটি সিনেমাতেই চঞ্চলের অভিনয় থাকছে–এ তথ্য ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, দুই ছবির শুটিং শেষ। এর বাইরে আরও একটি সিনেমায় ক্যামিও চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। সূত্র বলছে, রায়হান রাফী পরিচালিত ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় বিশেষ উপস্থিতি রয়েছে চঞ্চলের।
যাত্রাপথের গল্পে
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে তানিম নূর নির্মাণ করছেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। ছবিটির অধিকাংশ দৃশ্যের শুটিং হয়েছে ট্রেনের ভেতরে, যা নির্মাণে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। চঞ্চল বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের গল্প চুম্বকের মতো টানে। তিনি তো গল্পের জাদুকর। তাঁর উপন্যাস থেকে চমৎকার একটি চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে। বিশাল টিম নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। ট্রেন ও হেলিকপ্টার–দুটিই ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত এটি একটি যাত্রাপথের গল্প।’
নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই সিনেমায় প্রতিটি চরিত্রেরই গুরুত্ব আছে। আসলে এখানে গল্পটাই আসল নায়ক।’ ছবিতে মোশাররফ করিম, বাঁধনসহ আরও অনেক শিল্পী অভিনয় করেছেন। দলগত অভিনয়ের এই সমন্বয় ছবিটিকে সমৃদ্ধ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংগ্রামের গল্পে
রেদওয়ান রনির ‘দম’ সিনেমার শুটিং হয়েছে কাজাখস্তান ও পাবনার একটি গ্রামে। এতে চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, পূজা চেরি প্রমুখ। সিনেমাটি নিয়ে চঞ্চল বলেন, ‘দম-এর গল্পটা প্রচণ্ড সংগ্রামের। আফরান নিশো অসাধারণ অভিনয় করেছেন। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।’
তিনি জানান, ছবিটির টিম ছিল অত্যন্ত পেশাদার। বাংলাদেশ ও কাজাখস্তানের সমন্বয়ে টেকনিক্যাল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ‘‘এত বড় ক্যানভাসে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার ক্যারিয়ারে এই প্রথম। আগে যেসব কাজ করেছি, সেগুলোর নির্দিষ্ট একটা পরিসর ছিল। কিন্তু ‘দম’ একেবারেই আলাদা মাপের’’–বলেন তিনি।
কাজাখস্তানে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে চঞ্চল বলেন, ‘মাইনাস দুই-তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আগে কখনও শুটিং করিনি। প্রচণ্ড ঠান্ডায় পুরো টিমকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। সব দৃশ্যে শীতের পোশাক পরা সম্ভব ছিল না। একটি দৃশ্য শেষ করেই আমরা দৌড়ে গাড়িতে গিয়ে বসতাম, যেখানে হিটার চালু থাকত। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এমন গল্পে কাজ করে দারুণ তৃপ্তি পেয়েছি।’
নারীপ্রধান গল্পে…
আসছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রায়হান রাফী নির্মাণ করেছেন ‘প্রেশার কুকার’। পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত অর্থে এ সিনেমায় কোনো একক নায়ক নেই। পুরো গল্প আবর্তিত হয়েছে কয়েকজন নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে। প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত ও স্নিগ্ধা চৌধুরী। চার নারীর ভিন্ন ভিন্ন জীবনযাত্রা, দ্বন্দ্ব ও বাস্তবতার চাপ থেকেই তৈরি হয়েছে ছবির নাটকীয়তা। সেই আবহেই ক্যামিও চরিত্রে হাজির হবেন চঞ্চল চৌধুরী। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি, পরিচালকের ঘনিষ্ঠ সূত্র তাঁর উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অন্যান্য ব্যস্ততা
এ ছাড়া রায়হান রাফী পরিচালিত ‘আন্ধার’ সিনেমার শুটিংও শেষ করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই ছবিতে তিনি একেবারেই নতুন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলে জানান। তাঁর ভাষায়, ‘আন্ধার একটি ভালো সিনেমা হয়েছে, চরিত্রটিও দর্শকের কাছে নতুন লাগবে।’
পাশাপাশি লিসা গাজীর ‘শাস্তি’ নামের একটি সিনেমার শুটিং শুরুর প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি। সেখানে তাঁর বিপরীতে থাকবেন পরীমণি। অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও রয়েছে তাঁর সম্পৃক্ততা। নির্মাতা ব্রাত্য বসু পরিচালিত ‘শেকড়’ সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন চঞ্চল। ছবির জন্য তিনি নতুনভাবে রেকর্ড করেছেন দুটি বাউল গান–বিজয় সরকারের ‘এই পৃথিবী যেমন আছে তেমনি ঠিক রবে’ এবং গোষ্ঠ গোপাল দাসের ‘ও জীবন রে, ছাড়িয়া না যাও মোরে’।
