খেটে খাওয়া মানুষ সিনেমা না দেখলে ইন্ডাস্ট্রি থাকবে না: সিয়াম

- Advertisements -

নাসিম রুমি: ঈদুল ফিতরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘রাক্ষস’। প্রথম দফায় কেবল মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পায় সিনেমাটি। বরবাদ-খ্যাত নির্মাতা মেহেদি হাসান হৃদয় পরিচালিত সিনেমাটিতে সিয়াম অভিনয় করেছেন পরিণত অ্যাকশন হিরো হিসেবে; যা সিয়ামের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জিং। তবে সিয়াম সেই চ্যালেঞ্জটা পরিপূর্ণভাবেই উতরে গেলেন– রাক্ষস মুক্তির পর দর্শকদের বাহবা পেলেন নায়ক। নির্মাতার ললাটে জুটল প্রশংসা।

বরবাদ নির্মাণের ধারাবাহিকতা সে যে রক্ষা করতে পেরেছেন সে স্বীকৃতি দিল দর্শকরাই। তাই সামাজিক মাধ্যমে রাক্ষস-২ করারও দাবি উঠল। প্রথম দফায় কেবল মাল্টিপ্লেক্সে রাক্ষস সীমাবদ্ধ থাকলেও মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহে রাক্ষস বিচরণ শুরু করল সারা বাংলাদেশে। অর্থাৎ সিঙ্গেল স্ক্রিনেও যাত্রা শুরু হলো। তাই নায়ক যখন শুরু থেকেই বলে আসছিলেন ‘রাক্ষস হচ্ছে গণমানুষের ছবি’। তার প্রতিফলন ঘটতে শুরু হলো এবার। সত্যি সত্যিই রাক্ষস হয়ে উঠল গণমানুষের।

নায়ক সিয়ামের ৮ বছরের ছোট্ট ক্যারিয়ার। পোড়ামন ২’ ‘দহন’, ‘ফাগুন হাওয়ায়’, ‘বিশ্বসুন্দরী’, ‘মৃধা বনাম মৃধা’, ‘শান’, দামাল ‘অপারেশন সুন্দরবন’, ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’, ‘অন্তর্জাল’, ‘জংলী’ সিনেমাগুলো উপহার দিয়েছেন। তবে সবই ছিল মাল্টিপ্লেক্স ঘেষা সিনেমা। তবে প্রথম সিনেমা পোড়ামান-২ এর মাল্টিপ্লেক্সে দাপুটে বিচরণ থাকলেও সেটা আনকোরা থাকায় সেটা ততটা উপলব্ধিতে আসেনি তাঁর।

প্রথম সিনেমার পর সবগুলো সিনেমা নিয়েই মাল্টিপ্লেক্সে ঘুরেছেন এই নায়ক। তাই সিয়াম হয়ে উঠেন মাল্টিপ্লেক্সের দর্শকদের নায়ক। কিন্তু বাংলাদেশে মাল্টিপ্লেক্সের বাইরে শতাধিক হল রয়েছে সিঙ্গেল স্ক্রিনের। যেসব হলে বিগত প্রায় ২৫ বছর ধরে একাই রাজত্ব করছেন শাকিব খান। এখনও বিদ্যমান তাঁরই রাজত্ব। শাকিব খান ছাড়া তাই সেসব হলের দর্শকদের কাছে খুব একটা যেতে পারছেন না অন্যরা। তবে এবার যেন গেলেন সিয়াম।

রাক্ষস তাঁকে নিয়ে গেল গণমানুষের কাছে। মাল্টিপ্লেক্সের পর সিয়ামও পেলেন সাধারণ দর্শকদের ভালোবাসার স্বাদ। দর্শকরা সিনেমা দেখে শীষ দিচ্ছেন, হলে সিনেমা চলার মাঝেই হইহুল্লোড় করে উঠছেন, বিলাত রাজা আইটেম গানটি চলার সময় দর্শকরা নেচে উঠছে দলবেঁধে– সেই সবই দেখা গেল সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে। তা দেখলেন নায়কও। আর অনুভূতি জানিয়ে বললেন, ‘কষ্ট করে পথচলা আর প্রজেক্ট পূর্ণ ডেডিকেশন দিয়ে কাজ করার পর এসবই তো বড় প্রাপ্তি’।

নায়ক আরও বললেন, আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি রাক্ষস ভরপুর বিনোদনের সিনেমা। শীষ, তালি ও দর্শকদের গানের সঙ্গে নাচানাচির সব বিষয় এতে রয়েছে। তাই সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তি পেলে এই সিনেমা দর্শকদের সবচেয়ে বেশি কানেক্ট করতে পারবেন। সিঙ্গেল স্ক্রিনে যাওয়ার পর তার প্রমাণ মিলেছে। ঈদের চতুর্থ সপ্তাহে ৫৫টি হলে চলছে সিনেমাটি। আমার বিশ্বাস, ঈদের পর পহেলা বৈশাখ উৎসবও রাঙিয়ে দেবে দর্শকদের।

অ্যাকশন ঘরানার সিনেমায় এখন প্রধান উপাদান হয়ে উঠেছে ‘নৃশংসতা’। এ নিয়ে অনেকে আপত্তিও তুলছেন। সেসব আপত্তির বিপরীতে সিয়াম বললেন, আমি জোরালোভাবে বলছি, রাক্ষস গণমানুষের ছবি। আমি যাঁকে চলচ্চিত্রে দেখে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি– সালমান শাহ; তিনিও সব সময় গণমানুষের জন্য ছবি করেছেন। কোনো নির্দিষ্ট দর্শকের জন্য নয়। মনে রাখতে হবে, খেটে খাওয়া মানুষ ছবি না দেখলে ইন্ডাস্ট্রি থাকবে না। ‘পোড়ামন ২’ থেকেই আমি এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি। হ্যাঁ, গল্প-উপস্থাপনে ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু দর্শকের মধ্যে বিভাজন করতে রাজি নই।

সিয়াম আরও বলেন, আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। এ ধরনের ছবি তো অনেক দর্শক দেখেন, উপভোগ করেন। তাদের বিনোদন দিতে হবে না? আর গল্প-নির্মাণ সবই পরিচালকের বিষয়, শিল্পীর দায়িত্ব হলো পরিচালকের চাহিদা মোতাবেক অভিনয়টুকু করা। আমি সেটাই করার চেষ্টা করি মাত্র।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/gigu
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন