English

20 C
Dhaka
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৩
- Advertisement -

প্রখ্যাত অভিনেতা খলিলের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

- Advertisements -

আজাদ আবুল কাশেম:  খলিল (আবুল ফজল মোহম্মদ খলিল উল্লাহ খান)। অভিনতা। চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন নায়ক হিসেবে। পরবর্তিতে খলচরিত্রসহ নানাবিধ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই গুণি অভিনেতা।

খল বা মন্দলোকের চরিত্রে বিভিন্ন ছবিতে অভিনয় করেও তিনি একসময় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

শুধু ভিলেন বা খলচরিত্রেই না, বহু ছবিতে তিনি ভালো মানুষের চরিত্রেও অভিনয় করেছেন, নানা ধরণের চরিত্রে অভিনয় করে, একজন শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে দক্ষতা দেখিয়েছেন। অনেক চলচ্চিত্রেই তিনি ভিন্ন ভিন্ন গুরত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং একজন গুণি অভিনেতা হিসেবে দর্শকমহলে প্রসংশিত হয়েছেন।

যাদের অভিনয় প্রতিভায় সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, অভিনেতা খলিল তাদেরই অন্যতম একজন ।
প্রখ্যাত এই অভিনেতার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। প্রয়াত এই গুণী অভিনেতার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

খলিল (আবুল ফজল মোহম্মদ খলিল উল্লাহ খান)। ১৯৩৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, ভারতের মেদিনীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা পুলিশ অফিসার ছিলেন বলে তাঁর শৈশব জীবন কেটেছে সিলেট, কৃষ্ণনগর, বগুড়া, বর্ধমান, নোয়াখালী এসব জায়গায়।

Advertisements

১৯৪৯ সালে ‘সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৫১-তে ‘মদনমোহন কলেজ’ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ‘সিলেট মুরারিচাঁদ কলেজ’ থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫১ সালে, আর্মি কমিশনে যোগ দিয়ে কোয়েটাতে চলে যান খলিল । ১৯৫২ সালে, ফিরে এসে আনসার এডজুট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘদিন সাসপেন্ড থাকার পর তা উইড্র হয় ১৯৭৭ সালে। ১৯৯২-তে আনসার থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

খলিল ১৯৫৯ সালে ‘সোনার কাজল’ ছবিতে প্রথম অভিনয় শুরু করেন, ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৬২-তে। এই ছবির পরিচালক জহির রায়হান ও কলিম শরাফি। ‘সোনার কাজল’ ছবিতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন তিনি । ছবিতে দু’জন নায়িকা ছিলেন- একজন সুমিতা দেবী, অপরজন সুলতানা জামান। চলচ্চিত্রে আসার পূর্বে বেশ কয়েকটি মঞ্চ নাটকেও অভিনয় করেন খলিল । নায়ক হিসেবে তিনি একে একে অভিনয় করেন— প্রীত না জানে রীত (১৯৬৩), সংগম (১৯৬৪), কাজল (১৯৬৫), ক্যায়সে কঁহু (১৯৬৫), ভাওয়াল সন্ন্যাসী (১৯৬৫), বেগানা (১৯৬৬), পুনম কি রাত (১৯৬৬), উলঝান (১৯৬৭), জংলী ফুল (১৯৬৮) প্রভৃতি ছবিতে।

‘উৎসর্গ’ এবং ‘এখানে আকাশ নীল’ ছবি দু’টির মাধ্যমে, খলিল চরিত্রাভিনেতা রূপে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে একজন জাঁদরেল অভিনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তাঁর অভিনীত ছবি’র মধ্যে- সমাপ্তি, অবুঝ মন, মেঘের পরে মেঘ, ওরা ১১ জন, ধীরে বহে মেঘনা, পায়ে চলার পথ, তানসেন, উৎসর্গ, বেঈমান, ঝড়ের পাখি, কন্যাবদল, অলঙ্কার, বাদী থেকে বেগম, নকল মানুষ, বাদশা, সংগ্রাম, আলোর মিছিল, গুন্ডা, জিঘাংসা, আয়না, এপার ওপার, আগুন, জীবন নিয়ে জুয়া, দস্যুবনহুর, মাসুদ রানা, মধুমতি, ওয়াদা, প্রতিনিধি, সূর্যসংগ্রাম, দম মারো দম, ফকির মজনুশাহ, নদের চাঁদ, পাগলা রাজা, আসামী, রজনীগন্ধা, মিন্টু আমার নাম, মনিহার, ভাই ভাই, চন্দ্রলেখা, বিনি সুতার মালা, মাটির পুতুল, যৌতুক, সোনার চেয়ে দামি, পূর্ণমিলন, দ্বীপ কন্যা, সুখে থাকো, মাটির ঘর, বদনাম, অভিযান, মৌচোর, কার বউ, বউ কথা কও, দিদার, ঝুমকা, আওয়াজ, নবাব, সৎভাই, মা ও ছেলে, আগুন পানি, লড়াকু, অভিযোগ, রঙ্গীন নবাব সিরাজ উদ্দৌলা, জিনের বাদশা, বীরপুরুষ, লাল বেনারশী, ছেলে কার, দোলনা, মরণের পরে, দুর্নাম, সাজানো বাগান, নালিশ, রক্তের বদলা, সন্তান যখন শত্রু, ঘৃণা, ঘাতক, ভণ্ড, বেয়াদব, এই ঘর এই সংসার, ক্ষমা নেই, আলো আমার আলো, লালদরিয়া, ভালোবাসা কারে কয়, না বলোনা, জমিদার বাড়ির মেয়ে, দাদীমা, অন্যতম উল্লেখযোগ্য ।

খলিল ‘গুন্ডা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত হন ১৯৭৬ সালে। ২০১২ সালে, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি, আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি দু’টি ছবিও প্রযোজনা করেছিলেন খলিল । একটি ‘সিপাহী’ অন্যটি ‘এই ঘর এই সংসার’।

বহু টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় করেছেন খলিল। টেলিভিশনেও তিনি সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর অভিনীত নাটকের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- আব্দুল্লাহ আল মামুনের ধারাবাহিক নাটক ‘সংশপ্তক’।
এই নাটকে তিনি ‘মিয়ার বেটা’ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে টেলিভিশন দর্শকদের কাছে, চির স্মরণীয় হয়ে আছেন।

Advertisements

অভনেতা খলিল, বাংলাদেশ চলচিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসেবে দুই মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যক্তিজীবনে খলিল ১৯৫৪ সালে, রাবেয়া খানম-এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন । এই দম্পতির পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ে।

প্রথম দিকে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করলেও পরবর্তিতে বিভিন্ন ছবিতে খলচরিত্রসহ নানাবিধ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই গুণি অভিনেতা। খল বা মন্দলোকের চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি একসময় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। চরিত্রাভিনেতা হিসেবে একের পর এক অভিনয় করে গেছেন ব্যবসাসফল সব নামকরা সিনেমায়।

শুধু ভিলেন বা খলচরিত্রেই না, বহু ছবিতে তিনি ভালো মানুষের চরিত্রেও অভিনয় করেছেন, বিভিন্ন ছবিতে নানা ধরণের চরিত্রে অভিনয় করে, একজন শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে দক্ষতা দেখিয়েছেন সব ছবিতেই। অনেক চলচ্চিত্রেই তিনি ভিন্ন ভিন্ন গুরত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং একজন গুণি অভিনেতা হিসেবে দর্শকমহলে প্রসংশিত হয়েছেন, জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

যাদের অভিনয় প্রতিভায় সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, অভিনেতা খলিল তাদেরই অন্যতম । বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অনন্য অবদান রেখে গেছেন যারা, তাদের মধ্যে তিনিও একজন।

লক্ষ-কোটি ভক্ত-দর্শকদের হৃদয়ে খলিল-এর মতো অভিনেতা, অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন অনন্তকাল।

সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন