English

34 C
Dhaka
বুধবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৪
- Advertisement -

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক এর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

- Advertisements -

এ কে আজাদ: বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক-এর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। মৃত্যুদিবসে বিনম্র শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করছি।

আবু ইসহাক ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর, শরীয়তপুর জেলা নড়িয়া থানার শিরঙ্গল গ্রামে, জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর বাবা মৌলভী মোহাম্মদ এবাদুল্লা ছিলেন ব্যবসায়ী, মা আতহারুন্নিসা গৃহিণী। বাবা-মায়ের ছয় সন্তানের মধ্যে আবু ইসহাক ছিলেন পঞ্চম ।

আবু ইসহাক ১৯৪২ সালে, নড়িয়া থানার উপসী বিজারি তারাপ্রসন্ন ইংরেজি উচ্চবিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ নিয়ে মেট্রিক পাস করেন। ১৯৪৪ সালে, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আই.এ পাস করেন। ১৯৬০ সালে পাকিস্তানের করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি ।

আবু ইসহাক প্রথম জীবনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শক পদে চাকরী করেন। দেশবিভাগের পরে ১৯৪৯ সালে পুলিশ বিভাগে সহকারি পরিদর্শক হন তিনি। ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে কর্মরত ছিলেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে, ঢাকায় এসে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার উপ-পরিচালক হন আবু ইসহাক । পরের বছর বার্মার আকিয়াবে বাংলাদেশ সরকারের দূতাবাসে ভাইস-কনসাল এবং ১৯৭৬ সালে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের প্রথম সেক্রেটারি পদে নিয়োগ পান । ১৯৭৯ সালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার খুলনা বিভাগের প্রধান হয়ে, ১৯৮৪ সালে অবসার গ্রহণ করেন তিনি।

১৯৪৬ সালে, মাত্র বিশ বছর বয়সে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’। এই উপন্যাসটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।

কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক এর রচনাসমূহ- সূর্য দীঘল বাড়ি (উপন্যাস), পদ্মার পলিদ্বীপ (উপন্যাস),
জাল ( উপন্যাস), হারেম (গল্প), মহাপতঙ্গ (গল্প), জোঁক (গল্প) প্রভৃতি ।

তাঁর রচিত কালজয়ী উপন্যাস ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ অবলম্বনে, ১৯৭৯ সালে নির্মিত হয় বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন মশিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালকদ্বয়। আবু ইসহাক এর উপন্যাস নিয়ে নির্মিত ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ চলচ্চিত্রটি দিয়েই, আন্তর্জাতিকভাবে প্রথম পুরস্কৃত হয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্র।

‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ ছবিটি ১৯৮০ সালে, ম্যানহেইম চলচ্চিত্র উৎসব, জার্মানিতে অংশগ্রহণ করে এবং তিনটি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে। পর্তুগাল-এ ফিগুএরা দা ফোজ চলচ্চিত্র উৎসব (১৯৮০)- এ একটি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে।

আর বাংলাদেশে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ মোট আটটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ, ছয়টি বিভাগে পুরস্কার পায় ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ ছবিটি।

অভিধান প্রণেতা হিসেবেও আবু ইসহাক বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করেন। যা বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বহুলাংশে বাড়িয়ে তুলেছে। তাঁর প্রণীত অভিধানের বিশেষত্ব হলো, শব্দের শুধু অর্থ নয়, সব ধরনের প্রতিশব্দ বা সমার্থক প্রদান। তাঁর অভিধানে ‘অন্ধকার’ শব্দের ১২৭টি পর্যন্ত সমার্থক শব্দ আছে।

আবু ইসহাক তাঁর কর্মের স্বীকৃতিতে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন, যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২-৬৩), সুন্দরবন সাহিত্যপদক (১৯৮১), একুশে পদক (১৯৯৭) ও স্বাধীনতা পদক (২০০৪-মরণোত্তর)।

বাংলা সাহিত্যে তাঁর রচনাসম্ভার সংখ্যার বিচারে স্বল্প হলেও, গুণেগত মানের বিচারে একজন কালজয়ী কথাসাহিত্যিক হিসেবে বহুকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন আবু ইসহাক।

সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন