মৃণাল সেনের সঙ্গে দেখা হলে আগে প্রণাম করতাম: চঞ্চল চৌধুরী

- Advertisements -

নাসিম রুমি: ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেনের বায়োপিক নির্মাণ করেছেন কলকাতার সৃজিত মুখার্জি। কয়েক বছর আগে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমায় মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মৃণাল সেনের জন্মবার্ষিকী ছিলো। বিশেষ দিনে গুণী নির্মাতাকে নিয়ে কথা বলেছেন চঞ্চল।

এ আলাপচারিতায় চঞ্চল চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, মৃণাল সেনকে প্রথম চেনেন কীভাবে? জবাবে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “অবশ্যই একজন নির্মাতা হিসেবে মানুষটাকে প্রথম চিনেছি। ছোটবেলায় আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না। ক্লাস টেনে পড়ার সময়েই সিনেমা দেখা শুরু করি। কলেজে পড়ার আগে ভিসিআরে সিনেমা দেখতাম। সেই সময়ে প্রথম উনার সিনেমা দেখি। যদিও সময়, বয়স, অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে তার সিনেমার অন্তর্নিহিত অর্থ বদলে বদলে গেছে। সিনেমার মাধ্যমেই পরিচয় মৃণাল সেনের সঙ্গে। ওই নব্বই দশকের সময়। ওই সময়ে উনার ভক্ত হয়ে ওঠা।”

Advertisements

খানিকটা ব্যাখ্যা করে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “উপমহাদেশের তিনজন বড় পরিচালকের কথা মাথায় এলে সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন এবং ঋত্বিক ঘটকের কথাই মাথায় আসে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নির্মাতাদের সিনেমা দেখি। একটা কাজ থেকে অন্য কাজ কীভাবে আলাদা, কাজের ধরন দেখে সেটা বোঝার চেষ্টা করি। মৃণাল সেনের সব সিনেমাই আমার দেখা। আমার প্রিয় নির্মাতা। উনার সিনেমার গল্প বা নির্মাণ অন্য পরিচালকের থেকে একেবারেই আলাদা।”

মৃণাল সেনের সিনেমা দেখে জীবন সম্পর্কে আপনার কী ধারণা হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “মানুষের সামাজিক অবস্থান, তাদের পরিবার, শ্রমজীবী মানুষ, অবহেলিত মানুষ, তাদের জীবনদর্শন নিয়েই তার অধিকাংশ কাজ, যা আমাকে আকৃষ্ট করেছে। মানুষটা কোনো দিনই খ্যাতির পিছনে ছোটেননি। নিজের নীতি-আদর্শ থেকে ছিটকে যাননি। শত বাধা, শত লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করেছেন। তার জীবনের আর্থিক সংকটের কথা ‘পদাতিক’ করতে গিয়ে জেনেছি। তার পারিবারিক জীবন, তার প্রেম, সন্তান, তার ব্যর্থতা, ঘুরে দাঁড়ানো, প্রতিজ্ঞা, সবটাই তার কাজের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে। এটা খুবই কঠিন একটি কাজ। আমিও ব্যক্তিগত জীবনে অনেক লড়াই করেছি, তাই উনার জীবন আমাকে ছুঁয়ে গেছে।”

Advertisements

কখনো যদি মৃণাল সেনের সঙ্গে দেখা হতো, তবে কী বলতেন? জবাবে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “এটা তো স্বপ্নেরও বাইরে। কল্পনার কথা। উনার সঙ্গে দেখা হলে আগে প্রণাম করতাম। বলতাম, ‘আপনার শুধু কাজ, আপনার সিনেমা বা শুধু একজন নির্মাতা হিসেবেই নয়, আপনার ব্যক্তিজীবনটাও আমার কাছে অনুসরণীয়। আমি চেষ্টা করব, আপনার জীবনদর্শনকে নিজের ভিতর ধারণ করার।”

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/cdle
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন