স্বনামখ্যাত মেধাবী চলচ্চিত্র সম্পাদক মুজিবুর রহমান দুলুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

- Advertisements -

এ কে আজাদ: মুজিবুর রহমান দুলু। চলচ্চিত্র সম্পাদক। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সমৃদ্ধ হয়েছে যে ক’জন চলচ্চিত্র সম্পাদকের হাত ধরে, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন তিনি। কাজ করেছেন অনেক নামি-দামী চলচ্চিত্রব্যক্তিত্বদের সাথে। তাঁর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বহু চলচ্চিত্র হয়েছে ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয়। একজন মেধাবী ও গুণী চলচ্চিত্র সম্পাদক হিসেবে সমাদৃত ছিলেন সবার কাছে। আটবার বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে। স্বনামখ্যাত মেধাবী চলচ্চিত্র সম্পাদক মুজিবুর রহমান দুলু’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০২৫ সালের ৩১ মে, ঢাকাস্থ গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। প্রয়াত এই গুণি চিত্রসম্পাদকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

মুজিবুর রহমান দুলু ১৯৫২ সালের ৩ ডিসেম্বর, ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় পোলিও রোগে আক্রান্ত হবার ফলে তাঁর দুই পায়েই সমস্যা দেখা দেয়, যা সারেনি কখনও। তরুণ বয়সেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র সম্পাদক এনামুল হকের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে সম্পৃক্ত হন।

Advertisements

মুজিবুর রহমান দুলু সম্পাদিত প্রথম চলচ্চিত্র, আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়ন মনি’ মুক্তিপায় ১৯৭৬ সালে। মুজিবুর রহমান দুলু সম্পাদিত উল্লেখযোগ‍্য চলচ্চিত্রগুলো হলো- দিন যায় কথা থাকে, ছোট মা, নাগর দোলা, ভাতদে, তিন কন্যা, সত্য মিথ্যা, পিতা মাতার সন্তান, বাংলার বধূ, প্রেম প্রীতি, টাকার অহংকার, অনুতপ্ত, শত্রুতা, লাভ, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, প্রথম প্রেম, আসামী গ্রেফতার, গোলাপী এখন ঢাকায়, জীবন দিয়ে ভালবাসি, রঙীন সুজন সখি, অন্তরে অন্তরে, তুমি আমার, আদরের সন্তান, আসামী বধূ, সংসারের সুখ দুঃখ, আঞ্জুমান, আশা ভালোবাসা, বাজীগর, স্বজন, স্বপ্নের পৃথিবী, বিচার হবে, মায়ের অধিকার, শান্তি চাই, আনন্দ অশ্রু, অনেক দিনের আশা, সবুজ কোট কালো চশমা, একটি সংসারের গল্প, পাহারাদার, জিদ্দী সন্তান, মেঘলা আকাশ, ইতিহাস, মিনিস্টার, নসিমন, মনের মাঝে তুমি, স্বামী ছিনতাই, আগুন জ্বলবেই, বলো না ভালোবাসি, চার সতীনের ঘর, কাল সকালে, হাজার বছর ধরে, আয়না, না বোলনা, মেঘের কোলে রোদ, অনিশ্চিত যাত্রা, শবনম, ৭১-এর মা জননী প্রভৃতি।

Advertisements

মুজিবুর রহমান দুলু, চলচ্চিত্রে তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন। যেসব চলচ্চিত্রে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন- ভাত দে (১৯৮৪), তিন কন্যা (১৯৮৫), সত্য মিথ্যা (১৯৮৯), পিতা মাতার সন্তান (১৯৯১), বাংলার বধূ (১৯৯৩), মেঘলা আকাশ (২০০১), ইতিহাস (২০০২), অবুঝ বউ (২০১০)।
এ ছাড়াও, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি পুরস্কার ১৯৯৭ জয়ী শ্রেষ্ঠ সম্পাদক ‘সুখের ঘরে দুখের আগুন’ ও কিউট-চ্যানেল আই চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০০২ জয়ী শ্রেষ্ঠ সম্পাদক ‘ইতিহাস’ চলচ্চিত্রের জন্য।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/8024
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন