অভিনেতা এস এম মহসীন এর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

- Advertisements -

এ কে আজাদ: অভিনেতা এস এম মহসীন এর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। প্রয়াত এই অভিনয়শিল্পীর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

এস এম মহসীন, ১৯৪৮ সালে, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের, খাগুটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
ছোটবেলা থেকেই তাঁর নাটক ও অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল। জানা যায় ক্লাশ টুতে পড়াকালীন সময়ে ‘টিপু সুলতান’ নাটকে শিশুশিল্পী হিসেবে মঞ্চে অভিনয় শুরু করেছেন ।
তারপর ধীরে ধীরে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকেই মঞ্চাভিনয়কে আপন করে নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে পড়াশোনা শেষে দিল্লীতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে প্রশিক্ষণ নেন।

৭০ দশকে থিয়েটারের সাথে যুক্ত হয়ে মঞ্চে কাজ করা শুরু করেন। থিয়েটারের অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন। এস এম মহসীন অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক – ‘আমি তুমি সে’, ‘এ মোর অহংকার’, ‘তুমি সেই প্রজাপতি, ‘আমার দেশের লাগি’, ‘আমাদের সন্তানেরা’, ‘মহানিশা’, ‘শীর্ষবিন্দু, ‘বৈরী বসন্ত’, ‘দুরন্ত’, ‘দিপান্তর’, ‘কবর’, ‘সুবচন নির্বাসন’, ও
‘চুপ আদালত চলছে’সহ অনেক নাটকে অভিনয় করেছেন।

আবদুল্লাহ আল মামুনের হাত ধরে টিভি নাটকে অভিষেক ঘটে তাঁর । মহর আলী, সাকিন সরিসুরি, গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প, নীলম্বরি’সহ অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন এস এম মহসীন।

তিনি বেশকিছু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।
চিত্রানদীর পারে, অনিল বাগচীর একদিন, আঁখি ও তার বন্ধুরা, গোর, ঢাকা ড্রীম, অন্তরাত্মা তারমধ্যে অন্যতম।

এস এম মহসীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্য বিভাগ অনুষদের সদস্য হিসেবে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে এবং জাতীয় থিয়েটারের প্রথম প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।

আজীবন নাটকের সাথেই কাটিয়ে দেয়া নাট্যপ্রেমী মানুষ এস এম মহসীন তাঁর কাজের অস্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বহু পুরস্কার ও সম্মাননা। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য-
২০০৭ সালে ‘গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প’ টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ টিভি অভিনেতার ‘মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার’ অর্জন । ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমি তাঁকে ফেলোশিপ প্রদান করে। অভিনয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে, ২০২০ সালে ‘একুশে পদক’ প্রদান করে।

ব্যক্তিগত জীবনে এস এম মহসীন দুই সন্তানের জনক ছিলেন। ছেলেরা হলেন- রেজওয়ান মহসীন ও রাশেক মহসীন।

মঞ্চ, বেতার, টিভি ও চলচ্চিত্রের একজন গুণী অভিনেতা ছিলেন এস এম মহসীন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নাটক আর অভিনয়ের সাথেই কাটিয়ে গেছেন তিনি। চার দশকের অভিনয় জীবনে, আমাদের নাটকের মান উন্নয়নে রেখেগেছেন অপরিসীম ভূমিকা।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/00ym
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন