English

27 C
Dhaka
মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
- Advertisement -

অস্ট্রেলিয়া সিডনি অপেরা হাউজে ফেরদৌস আরার একক সংগীতানুষ্ঠান

- Advertisements -

সালাম মাহমুদ: সিডনির ইতিহাসে প্রথম বৈশাখ উদযাপন সিডনি অপেরা হাউজে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বৈশাখী প্যারেড ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করবেন একুশে পদকে ভূষিত বরেণ্য নজরুল সংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা। অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজনে-জন্মভূমি মিডিয়া এন্ড কালচার,বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ প্রেস মিডিয়া এন্ড কালচারাল ক্লাব অস্ট্রেলিয়া।মিডিয়া পার্টনার -চ্যানেল আাই,আই স্ক্রিন।আয়োজকরা জানিয়েছেন সকল আসন ইতিমধ্যে বুকড হয়েছে।

দেশের প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা। তিন দশকের অধিক সময় ধরে দেশের সংগীতাঙ্গনে তার অবদান অনস্বীকার্য। শুধু নজরুলসংগীত নয়, উচ্চাঙ্গসংগীত থেকে আধুনিক সব ধরনের সংগীতে সমানভাবে দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। তার কণ্ঠ ও সুরের জাদুতে বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

ফেরদৌস আরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবার চাকরির কারণে শৈশব থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাস করতে হয়েছিল তাকে। ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের পৈতৃক বাড়িও তার শৈশবের স্মৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ছোটবেলা থেকেই তিনি কৌতূহলী, প্রাণবন্ত ও দুরন্তপনা ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বলত, মেয়েটি যেন ছেলে হয়ে জন্মেছে। নতুন পোশাক, ছেলেদের মতো খেলা, গাছে ওঠা—সবই ছিল তার নিত্য অভ্যাস। সেই দুষ্টুমি ও সাহসিকতার মধ্যে লুকিয়ে ছিল তার সংগীতপ্রেম, যা পরে তাকে পৌঁছে দেয় অনন্য উচ্চতায়।

ফেরদৌস আরা পারিবারিকভাবেই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বাবা ছিলেন একজন গায়ক এবং ক্ল্যাসিক্যাল সংগীতের বিশেষজ্ঞ। বাড়িতে রাত জেগে ওস্তাদদের নিয়ে আসর বসত, যা ফেরদৌস আরার সংগীতের প্রতি আগ্রহ আরো তীব্র করেছিল।

ছোটবেলায় তিনি বোনদের সঙ্গে ক্ল্যাসিক্যাল গান শিখলেও আধুনিক সংগীতের প্রতি আগ্রহও কম ছিল না। বাবার কাছ থেকে ক্ল্যাসিক্যাল গান শেখার চেষ্টা তিনি সবসময় অব্যাহত রেখেছেন।

১৯৭২ সালে রেডিও এবং পরে বিটিভিতে অডিশন দিয়ে প্রথমবার দেশের শ্রোতাদের সামনে প্রতিভা প্রদর্শন করেন তিনি। সে অডিশনেই তাকে চলচ্চিত্রে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। ভারতের সমরেশ মজুমদার ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়সহ বিশিষ্ট শিল্পীরাও তাকে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ফেরদৌস আরা সবসময় নিজেকে সংগীতের সঙ্গেই রেখেছেন।

২০০০ সালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সুরসপ্তক’, যেখানে বহু শিক্ষার্থী ক্ল্যাসিক্যাল ও নজরুলসংগীত শিখেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের প্রতি তার ভালোবাসা ও যত্ন তাকে শিক্ষার্থীদের প্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে।

তার শিক্ষকতা কেবল সংগীত শেখানো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, তিনি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাদের সংগীতভিত্তিক চিন্তাভাবনা ও মানসিক উন্নয়নে অবদান রাখেন।

সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি পেয়েছেন একুশে পদক, নিউহ্যাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অ্যাওয়ার্ড, ট্রাব অ্যাওয়ার্ড, এজাহিকাফ আজীবন সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড, সানরাইজ রেডিও অ্যাওয়ার্ড, জয়নুল আবেদিন পদক, নজরুল পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগীত মহল থেকে পেয়েছেন নানা সম্মাননা ও পুরস্কার।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/x7te
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন