আসিফ আকবরকে নিয়ে যে কথা বললেন মিল্টন খন্দকার

- Advertisements -

বিনোদন জগতের সংগীতাঙ্গনের খ্যাতিমান গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মিল্টন খন্দকার সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরকে নিয়ে একটি চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নিয়েছেন তিনি।

সংগীতের যুবরাজ আসিফ আকবরের জন্মদিন উপলক্ষ্যে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ভক্ত-অনুরাগীদের বেশ মুগ্ধ করেছে। সেই পোস্টে সংগীত পরিচালক মিল্টন খন্দকার ফিরে যান প্রায় দুই যুগ আগের এক স্মৃতিতে। সেই সময় যশোর অঞ্চলের এক মেধাবী স্কুলশিক্ষার্থীর কিডনি সমস্যার চিকিৎসার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল একটি চ্যারিটি শো। সেই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে স্থানীয়ভাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যেখানে জনপ্রিয় কোনো শিল্পীকে আনার পরিকল্পনা ছিল আয়োজকদের।

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে আসিফ আকবরকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সেই দায়িত্ব পড়ে মিল্টন খন্দকারের ওপর। তিনি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি শিল্পীর কাছে পৌঁছে দেন। তবে চিঠি পাওয়ার পর প্রথম দিকে আসিফ আকবরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সম্মানী দাবি করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এতে আয়োজকদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি এবং হতাশা পরিলক্ষিত হয়।

পোস্টে মিল্টন খন্দকার আরও লিখেছেন, সেই সময় ছোটভাইয়েরা তার কাছে এসে বিষয়টি জানালে তিনি কিছুটা বিস্মিত হন। এমনকি বিকল্প শিল্পী নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির (এমপি) ইচ্ছা— অনুষ্ঠানে আসিফ আকবরই থাকবেন।

পরে নির্ধারিত দিনে সেই চ্যারিটি শো অনুষ্ঠিত হয়। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় অনুষ্ঠানের মঞ্চেই। গায়ক আসিফ আকবর তার দলবল নিয়ে সময়মতো উপস্থিত হন এবং স্বাভাবিকভাবেই গান পরিবেশন করেন।

সব কিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে থাকে। কিন্তু অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মঞ্চে উঠে তিনি ডাক দেন অসুস্থ শিক্ষার্থীর মাকে। সেই সঙ্গে উপস্থিত এমপি, ডিসিসহ অন্যান্য অতিথিকেও মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। এরপর সবার সামনে নিজের পারিশ্রমিক এবং তার সঙ্গে থাকা সংগীতশিল্পীদের সম্মানীসহ পুরো অর্থ তুলে দেন সেই শিক্ষার্থীর মায়ের হাতে। নিজের জন্য এক পয়সাও রাখেননি তিনি।

এ ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে সংগীত পরিচালক বলেন, সেই সময় উপস্থিত দর্শকরা করতালিতে ফেটে পড়েন। পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে তৈরি হয় আবেগঘন এক পরিবেশ। অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, আসিফ আকবর ভালোভাবেই জানতেন যে, অনেক সময় চ্যারিটি শোর সংগৃহীত অর্থ প্রকৃত প্রাপকের হাতে পৌঁছায় না। আর সে কারণেই তিনি সবার সামনে সরাসরি অর্থ তুলে দেন, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের সুযোগ না থাকে।

মিল্টন খন্দকার বলেন, শুধু অর্থ তুলে দেওয়াই নয়, ওই অর্থ যেন সঠিকভাবে শিক্ষার্থীর চিকিৎসার কাজে ব্যয় হয়, সেই বিষয়েও উপস্থিত এমপি ও ডিসি কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান এ সংগীতশিল্পী।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠান শেষে আসিফ আকবর আয়োজকদের ডেকে বলেন— জীবনে প্রথমবার ‘উস্তাদের’ কাছ থেকে পাওয়া চিঠির মর্যাদা রাখতেই তিনি এমনটি করেছেন। ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

এ সংগীত পরিচালক সংগীতের যুবরাজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নিজেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মিল্টন খন্দকার বলেন, সেই দিনের ঘটনা আজও তাকে গর্বিত করে এবং সম্মানীত করে। একজন শিল্পীর মধ্যে এমন মানবিকতা বিরল বলেও মন্তব্য করেন এ সুরকার।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/28m1
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন