চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় একজন নায়ক। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। সবাই অবগত যে একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী এই অভিনেতা ব্রেন টিউমারে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন। এরইমধ্যে দ্বিতীয় দফায় তার ক্যামোথেরাপি চলছে। এই থেরাপি চলবে আগামী মে মাস পর্যন্ত। এরপর জার্মানীতে নিয়ে গিয়ে একটি ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। তারপরও যদি তার শরীর অনেকটাই ঠিকঠাক হয়ে যায় তবেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন নিরপদ সড়ক চাইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ।
এদিকে ইলিয়াস কাঞ্চনের সহশিল্পীরাও আশায় বুক বেঁধে আছেন যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি দেশে ফিরবেন। ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে বহু সিনেমায় অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মিশা সওদাগর। মিশা সওদাগর বলেন, ‘কাঞ্চন ভাই সুস্থ হয়ে দ্রুত আমাদের মাঝে ফিরে আসুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তিনি ভালো মনের একজন মানুষ এবং একজন গুণী অভিনেতা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তার অনেক অবদান রয়েছে।’ চিত্রনায়িকা চম্পা বলেন, ‘কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে বহু সিনেমায় অভিনয় করেছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে তার পরিবারের কাছে ফিরতে পারেন।’
নায়িকা শাবনাজ বলেন, ‘কাঞ্চন ভাই আমাদের চলচ্চিত্রের গর্ব। পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চাই নিয়ে তিনি যুগের পর যুগ যে আন্দোলন করে গেছেন তা প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত হয়েই থাকবে। আমি তার পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করছি।’
চিত্রনায়িকা পপি বলেন, ‘কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে অনেক সিনেমাতে অভিনয় করেছি। তিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন। নানা সময়ে তার কাছ থেকে নানা পরামর্শ নিয়েছি। নিঃসন্দেহে তিনি ভালো মনের একজন মানুষ। এমন একজন মানুষ আজ জীবন নিয়ে যুদ্ধ করছেন। তার এই যুদ্ধ যেন দ্রুত শেষ হয়ে যায় এই দোয়াই করছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুস্থ রাখুন-এমনটাই চাওয়া।’
ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘বসুন্ধরা’ মুক্তি পায় ১৯৭৭ সালে। সুভাষ দত্ত পরিচালিত এই সিনেমায় তিনি ববিতার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন। আলমগীর কবির পরিচালিত ‘পরীণিতা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। এরপর ‘শাস্তি’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্যও একই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে সমাজসেবার জন্য ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন।
